নতুন প্রস্তাবিত "ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা" সদর দপ্তর নারায়নহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের হেয়াকোঁ বাজার চৌরাস্তা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে উপজেলার নারায়নহাট ও বালুটিলা বাজারেও একই দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক এসব মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। এসময় বক্তারা বলেন, সর্বশেষ গণ শুনানীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী নতুন প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর নারায়নহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তীস্থানে স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল। গনশুনানীর পর সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে নতুন উত্তর উপজেলা সদর নারায়নহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তীস্থানে জুজ খোলা মৌজায় স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের গুটি কয়েক কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে দক্ষিনের সুয়াবিলকে সংযুক্ত করে উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা প্রেরন করেন। এতে করে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে উত্তরের তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পরবর্তীতে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি রিট পিটিশনের পর আদালত ৬০ কার্য দিবসের মধ্যে নতুন প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও ভাগ্য বিড়ম্বনায় পড়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তারা যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিনটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো, বালুটিলা ও নারায়ণহাট বাজার এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত পালন করেন।
এ সময় তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার হাজার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে, ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। তাই জনগণের সুবিধা, সময় ও যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
তারা বলেন, একটি উপজেলার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সদর দপ্তর যদি অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী ও অযৌক্তিক স্থানে করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার বিষয় বিবেচনায় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
এসময় বিভিন্ন যৌক্তিক দাবী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াছ, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা একরামুল হক বাবুল, মাস্টার আবু তাহের চৌধুরী,আবুল খায়ের, ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক আহবায়ক নুরুল আমিন আজাদ,যুবদল নেতা একরামুল হক,ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন,মুফতি হাবিব উল্যাহ আজিজী, জসিম মেম্বার, কামাল মেম্বার,আলমগীর হোসেন,নুরুল আলম, প্রমূখ।