২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষা, যা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।
এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের সময়েই পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১১ হাজার ২৫৫ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রীসহ মোট ২৩ হাজার ৯০৩ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন, যার মধ্যে ১৬ হাজার ৩৪২ জন ছাত্র ও ২৭ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী।
এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্র এবং ১৫ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রীসহ ৩১ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
বোর্ডের তথ্য অনুযাযী, অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম জেলার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ হাজার ৯৭৪ জন।
কক্সবাজারে ১২ হাজার ২৫৫, রাঙামাটি জেলায় ৫ হাজার ৪৩৯, খাগড়াছড়িতে ৭ হাজার ৩৫৩ জন ও বান্দরবান জেলায় ৩ হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষা আয়োজনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, কেন্দ্র নকলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গুজব থেকে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে সব কোচিং সেন্টার পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ভিজিল্যান্স টিম গঠন
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ২৩টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি সাধারণ এবং ৮টি বিশেষ টিম।
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১৪টি কেন্দ্রে। চট্টগ্রাম জেলার ৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগরে। এর বাইরে কক্সবাজার জেলায় ১৮টি, বান্দরবানে আটটি এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১০টি করে কেন্দ্র রয়েছে।
বিশেষ নির্দেশাবলি
নির্দেশনায় বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
ব্যবহারিক বিষয় সম্বলিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় পর্যন্ত চলবে। এমসিকিউ এবং সিকিউ উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে—সকাল সাড়ে ৯টায় অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি ওএমআর শিট বিতরণ, সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ। (২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় ১০টা ২৫ মিনিট।)
দুপুর ২টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে—দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি ওএমআর শিট বিতরণ, দুপুর ২টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ (২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় ২টা ২৫ মিনিট।)
প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সরবরাহকৃত উত্তরপত্রে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশ পত্রে উল্লিখিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
পরীক্ষার্থীরা কাটাযুক্ত (নন-প্রোগ্রামেবল) হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা
চট্টগ্রাম নগরের সব পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পরীক্ষা চলাকালীন সময়জুড়ে এ আদেশ কার্যকর থাকবে। নকল প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯, ৩০ ও ৩৩ ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্ধারিত এলাকায় এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
এই আদেশের আওতায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য, লাঠিসোঁটা বহন, যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল, উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার বা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রের ব্যবহার, অননুমোদিত ও বহিরাগত ব্যক্তিদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিএমপি জানিয়েছে, এই নির্দেশ প্রতিটি পরীক্ষার দিন কার্যকর থাকবে এবং কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রসংলগ্ন সব ফটোকপির দোকান ও ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি।
ঘন ঘন লোডশেডিং, নতুন উদ্বেগ
ঘন ঘন লোডশেডিং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন অভিভাবকেরা।
তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। তীব্র গরমের মধ্য দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক সময় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের বেগ পেতে হচ্ছে বেশি।
এদিকে, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষাবোর্ড ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে জন্য গত ২৮ জুন আমরা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দিয়েছি। তারাও এ বিষয়ে খুবই আন্তরিক। আশাকরি শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবেন।