রাউজানে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। যেকোনো মূল্যে রাউজানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। খুনি ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ বা সহায়তার নামে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কিংবা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাউজানের গহিরাস্থ নিজ বাসভবনে বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চলমান ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। তাঁর সংসদীয় এলাকা রাউজানে হালদা নদী, ডাবুয়া খাল ও সর্তা খালের ভাঙনে চিকদাইর, ডাবুয়া, পাহাড়তলী, বাগোয়ান, পশ্চিম গুজরা ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। কৃষি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে দুই হাজার পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আরও চার হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যরা দুর্গম এলাকায় পানি মাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।
সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। মানবিক সহায়তায় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, রাউজান উপজেলার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা ও ১০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি উপজেলা প্রশাসনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি, মৎস্য, পোল্ট্রি ও আবাসন খাতের পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। এ তালিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল-নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ দখল বা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনের আগে তিনি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. হালিম, রাউজান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হুদা চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব ফিরোজ আহমদ, রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুরুল হক মঞ্জু, কমান্ডার মোহাম্মদ শফি, হাবিবুল্লাহ মাস্টার, খোরশেদ আলমসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি রাউজানের উন্নয়ন, জনস্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।