বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "পরিবেশবিদদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে কেবল ‘কাউকে খুশি করার জন্য’ সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যার কারণে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন আজ মৃতপ্রায়।"
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন,"সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ির যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওড়ের ওপর অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা নির্মাণ করে সেখানকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এদেশের জনগণকে চরম বিপদের মুখে ফেলে পরিবেশকে বিপন্ন করার এই অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হচ্ছে।"
বর্তমান সরকারের পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার প্রকৃতি রক্ষায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চলমান বন্যা মোকাবিলায় সরকার ও বিএনপি যৌথভাবে প্রথম থেকেই মাঠে রয়েছে।"
তিনি বলেন,ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবার বিষয়ে রিজভী বলেন, মানুষের কাছে যাতে ত্রাণ পৌঁছায়, কোনো মানুষ যাতে ক্ষুধার্ত না থাকে, তাই খাবার পৌঁছে দিতে হবে। পানিবাহিত যে রোগগুলো হয়, বিশেষ করে চর্মরোগ, আমাশয় ইত্যাদি, এই সমস্ত রোগ নিরাময়ের জন্য তিনি সিভিল সার্জন এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে, বাড়িঘরে মানুষের কাছে যাতে ওষুধ পৌঁছায় এবং খাবার পৌঁছায়।
ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, "চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং খাল-জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা ও কালভার্ট নির্মাণ করা। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
মীর হেলাল আরও জানান, দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খনন কার্যক্রমকে টেকসই করতে খালের দুই পাড়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম,দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা,নগর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোহাম্মদ সাহেদ,ইকবাল হোসেন, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আনোয়ারায় ত্রাণ বিতরণ শেষ করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রামের অপর বন্যাদুর্গত এলাকা বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ করেন ।