চট্টগ্রাম মহানগরে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে চাঁদা দাবির পর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ডেভিড ইমনের অবস্থান এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ।
সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা এখনও তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চলমান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ঘটনার পর চকবাজার থানা, সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম এবং র্যাব-৭ যৌথভাবে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর, গত সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে।পুলিশ বলছে, ডেভিড ইমন দেশে অবস্থান করছেন নাকি বিদেশ থেকে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।