ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে সকল গণতান্ত্রিক দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট সহ একটি জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন। সেই জুলাই সনদ পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজ ১৬ জুলাই বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরো বলেছেন, আজকের আলোচনা সভা শোকের নয়, এটি শক্তি সঞ্চয়ের সভা। জুলাইয়ের শক্তিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমরা জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছাত্রদলের সদস্য ছিল, তার চেয়ে বড় পরিচয় সে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের সৈনিক ছিল। আজকের দিন শোকের না হয়ে শক্তি সঞ্চয়ের কেন তা যারা রাজপথে আন্দোলন করেছে, রক্ত দিয়েছে, ত্যাগ শিকার করেছেন তারা অনুভব করবেন। ক্ষমতার স্রোতে যারা ভেসে বেড়ায় তারা কখনো ত্যাগের মহিমা অনুভব করতে পারবে না। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা কখনো চেতনা নিয়ে ব্যবসা করে না। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় ৬০ টির বেশি পণ্যের মূল্য কমিয়েছেন। স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন ব্যয়বহুল জিনিসপত্রের দাম কমিয়েছেন। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার।
সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, শহীদ ওয়াসিম সহ যেসকল জুলাই যোদ্ধা জীবন দিয়েছেন আমরা তাদের ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করবো। প্রকৃত শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের নির্ভুলভাবে তালিকা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও আমাদের জুলাই বিপ্লবে জেগে উঠতে চেতনা জুগিয়েছে। এদেশে ফ্যাসিবাদ যেন আবার ফিরে না আসে সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ নতুন করে ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ রুখে দিবে। দেশের জন্য যারা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন জাতির কাছে সম্মানিত করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান এমপি বলেছেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম সহ যারা জীবন দিয়েছে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করে চলেছে। কিন্তু সে অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পলাতক স্বৈরাচারের সন্ত্রাসীরা ওঁৎ পেতে আছে। তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিগত সময়ে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা তাদের পতন করেছিলাম আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবো ঈণশাআল্লাহ্।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের শাসনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্র-জনতা জুলাইয়ে যে বিপ্লব ঘটিয়েছে তা পুরো জাতিকে নতুন পথের দিশা দিয়েছে। শহীদ ওয়াসিম সহ জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, ত্যাগ শিকার করেছেন তাদের প্রতি আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। ফ্যাসিবাদের সময় আমরা আতংকে থাকতাম যেকোনো সময় যেকেউ গুম, খুন ও হামলার শিকার হতে পারি। এখন আর সেই আতঙ্ক জনগণের মাঝে নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফ্যাসিবাদের সেই ভীতিকর সময় আর ফিরে আসবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য সাঈদ আল নোমান তুর্য এমপি বলেছেন, আমাদের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় শহীদ ওয়াসিম একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন। মানুষের অধিকার, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর সাহস, আদর্শ ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। শহীদ ওয়াসিম সহ সকল শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা, সার্বভোমত্ব ও দেশপ্রেমের পবিত্র দায়িত্বকে।২৪ এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘদিন পথ দেখাবে। তাই বলবো একাত্তর আমাদের অস্তিত্ব চব্বিশ আমাদের পাথেয়।আমি এমপি কিংবা নেতা হিসেবে নই আপনাদের একজন হয়ে পাশে থাকতে চাই, আপনাদের সেবা করে যেতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেছেন, আজকের এইদিন জুলাই বিপ্লবের শুধু আলোচনা নয়, এইদিন একই সাথে শোকেরও। ফ্যাসিস্ট সরকার সেদিন ছাত্র জনতা ও বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের উপর যে অমানবিক নির্যাতন হয়েছিল তা অত্যন্ত পাশবিক ছিল। আমরা শহীদ ওয়াসিম সহ জুলাইয়ে সকল শহীদ ও সংশ্লিষ্টদের স্মরণে রাখবো। ছাত্রদল জুলাই বিপ্লবের অন্যতম কারিগর ছিল এবং সে চেতনাকে মনে প্রাণে ধারণ করে।
এসময় চট্টগ্রাম জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নুসরাত সুলতানা, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলা উদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার রূবেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রবিউল হোসেন রবি, সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন সবুজ সহ চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃবৃন্দ।