ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না : শিক্ষামন্ত্রী

ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমরা এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যতই ট্রল বা অপবাদ দিক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না।’

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এক আলোচনা সভা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে ট্রল শুরু হয়ে গেল। যারা ট্রল করা শুরু করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। ঢাকার আইডিয়াল কলেজ, ল্যাবরেটরি স্কুল বা ভিকারুননিসা নূন স্কুল কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে। এভাবে আন্দোলন করে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম। বর্তমানে তার সন্তান তারেক রহমানে সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি। কীভাবে আপনারা ভাবতে পারেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে। নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের অবস্থানে কঠিন থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতে হবে এবং তার মানোন্নয়ন করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমাকে এক পরীক্ষার্থী ফোন করে পরীক্ষা বন্ধ করার অনুরোধ করে। আমার মেয়ে তানজিদার মাথায় একটু বৃষ্টির পানি পড়লে, ফার্মের মুরগির মতো জ্বর চলে আসে। ওই পরীক্ষার্থীকে আমার মেয়ের উদাহরণ হিসেবে দিয়েছিলাম এবং চিন্তা করছিলাম যে, বৃষ্টিতে তোমাদের জ্বর আসে কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেছি, পরীক্ষা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। পরে তাকে সান্ত্বনা দিলাম, লক্ষ্মী মা আমার, পড়ার টেবিলে বসো এবং মাকে বলো এক কাপ কফি তৈরি করে দিতে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ব্যপারটা নেগেটিভে নিয়ে গেল। জাতি যদি এভাবে অর্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।’

এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে পায়রা অবমুক্ত ও বেলুন উড়ানো এবং ফলক উন্মোচন করা হয়। পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে আম গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী। এসময় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল ইসলাম ও নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু প্রমুখ।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আইন ও হিসাব বিজ্ঞান এই দুই অনুষদে ৪০ জন করে মোট ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ জন শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু হলেও, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক পরিবেশ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ইতোমধ্যে ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email