“সেদিন যাকে কোলে নিয়েছি, আজ সে বিশ্বের অন্যতম সেরা”

“সেদিন যাকে কোলে নিয়েছি, আজ সে বিশ্বের অন্যতম সেরা”

ফুটবল অনেক সময় রূপকথাকেও হার মানায়—লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের গল্পটি যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ। আজ থেকে প্রায় ১৯ বছর আগে বার্সেলোনার এক দাতব্য কর্মসূচিতে শিশু ইয়ামালকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছিলেন তরুণ মেসি। সেই সময়ের ক্যামেরাবন্দি অবোধ শিশুটিই আজ বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে মেসির প্রধান প্রতিপক্ষ! বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল শুধু আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের লড়াই নয়, এটি যেন দুই প্রজন্মের এক অনন্য সেতুবন্ধন।

ঐতিহাসিক সেই ছবি নিয়ে মেসির বিস্ময়: শনিবারের ফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সেই ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে নিজের বিস্ময় লুকিয়ে রাখেননি লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, “ছবিটি আসলেই অবিশ্বাস্য। জীবনের গতিপথ কীভাবে বদলে যায়, তা এই ছবিটিই প্রমাণ করে। আমি তখন তাকে কোলে নিয়েছিলাম, আর আজ সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। এটা অদ্ভুত এবং একই সঙ্গে দারুণ আনন্দের।”

ইয়ামালকে নিয়ে মেসির মূল্যায়ন ও ফাইনালের প্রস্তুতি: ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ সেনসেশনকে নিয়ে মেসি আরও যোগ করেন, “ইয়ামাল এখন ১৯ বছরের এক গ্লোবাল আইকন। তার সামনে পড়ে আছে এক দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। সে বার্সেলোনায় খেলে, তাই তার প্রতি আমার সবসময়ই শুভকামনা থাকে। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই তাকে আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। স্পেনের দলটি দারুণ এবং তাদের খেলার ধরন চমৎকার। আমরাও আমাদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে ট্রফি ধরে রাখতে প্রস্তুত।”

নায়ক যখন প্রতিপক্ষ: লামিন ইয়ামাল নিজেও একাধিকবার অকপটে স্বীকার করেছেন, মেসিই তাঁর শৈশবের নায়ক। কিন্তু রবিবারের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় সেই পরম আরাধ্য নায়কই হয়ে উঠবেন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ।

ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই রোমাঞ্চকর প্রশ্ন—শৈশবের সেই শিশু কি পারবেন তাঁর মেন্টর মেসিকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় পরতে? নাকি শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতারই জয় হবে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email