২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৯ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন তারকার জন্য এটিই কি শেষ বিশ্বকাপ—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবল অঙ্গনে।
তবে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত বিষয়।
ফাইনাল শেষে দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কালোনি বলেন, ‘মেসির এখন ৩৯ বছর। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। শুরু থেকেই আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল—সে যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিনই খেলবে। দলের সবাই, তার সতীর্থরা এবং আশপাশের মানুষ তাকে সমর্থন করবে। আমার বিশ্বাস, সবাই তার অর্জন নিয়ে গর্বিত। কারণ আমার কাছে সে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর স্পেন। ১২০ মিনিট শেষে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতল স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি ছড়াতে থাকে স্পেন। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে টানা দুটি আক্রমণ করে তারা। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনার বক্সে ভীতি ছড়ায় স্প্যানিশরা। প্রথমবার বক্সের মধ্যে ঢুকে দারুণ একটি শট নিয়েছিলেন ইয়ামাল। সেটি আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আটকে যায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শরীরে। পরের আক্রমণ ব্লক হয় আর্জেন্টিনার রক্ষণে।
এরপর ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল স্পেন। বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় মধ্য মাঠে উঠে এসে সেই আক্রমণ রুখে দেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আবারও আক্রমণে উঠেছিল স্পেন। নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন লামিন ইয়ামাল। সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ছয় গজ বক্সে ক্রসও বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল সতীর্থকে খুজে নেওয়ার আগেই গ্লাভসবন্দি করেন মার্টিনেজ।
এরপর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলের মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়। তবে আক্রমণ গড়তে পারেনি কোনো দলই।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ভয় পাইয়ে দেয় স্পেন। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে সুইচ করে ডানপ্রান্তে মিকেল ওইয়ারাসাবালের কাছে পাসে দেন। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ একটি শট নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই বল আটকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি মার্টিনেজকে।