চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একটি স্বতন্ত্র ক্লাব।
যা তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ক্লাব কারো শাখা বা অধীনস্হ ক্লাব নয়। প্রতিষ্টার পর থেকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্টার পর থেকে শতবর্ষের কাছাকাছি চলে এসেছে তার নিজস্ব গতিতে। কখনো ঢাকা মোহামেডান কিংবা অন্য কোন সংগঠন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকান্ডে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা, সহমর্মিতা কোনটাই করেনি বা চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে যা চট্টগ্রাম সম্পুর্ন বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভুত। এধরনের হটকারী কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এর লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মনে আঘাত দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্লাব টির নবগঠিত কমিটির কর্মকর্তারা জানান চট্টগ্রাম মোহামেডানের হারানো গৌরব ফেরাতে ভুমি ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তরুনদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। যাতে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিনত করা যায়। যার স্বপ্ন দেখেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান কর্তৃক এধরনের কমিটি গঠন খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করার শামিল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির মহাসচিব শওকত আজম খাজা। বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী এবং সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী বলেন একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র্র ক্লাবের একটি বৈধ কমিটির বিপরীতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক একটি এডহক কমিটি প্রদান সম্পুর্ন বেআইনী এবং অনৈতিক। যারা এধরনের গর্হিত কাজ করেছেন তারা অন্তত আলোচনা করতে পারতেন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে আমরা একই আদর্শের এবং আমরা তার সহকর্মী। তিনি আমাদেরকে তার প্রত্যাশার কথা জানাতে পারতেন। আমরা তার সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌছানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আর তাতে একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে জানান। দ্বিপ্তী জানান ঢাকা মোহামেডান যাকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারন সম্পাদক বানিয়ে দিয়েছেন তিনি এক এগারোর কুশিলব বর্তমানে কারাবন্দী জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দোষর। যে মাসুদ উদ্দিনের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেমনই একজন ঘৃনীত এবং চিহ্নিত দোষরকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবটির লক্ষ লক্ষ সমর্থক মেনে নেবেনা কোনদিন।
ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মত একটি গৌরবময় প্রতিষ্টানের উপর একটি অবৈধ কমিটি চাপিয়ে দেওয়াটা শুধু গর্হিত কাজই নয়, বরং অবিচার বটে। ঢাকা মোহামেডান কোন কালেই চট্টগ্রাম মোহামেডানের কোন কাজে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ কোনটি করেনি বা করার এখতিয়ার ও রাখেনা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক নিজস্ব গতিতে বিগত ৭৫ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেই চলবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, আবু বকর ছিদ্দিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নেয়ামত উল্লাহ তৌহিদ, ফজলুল হক সুমন, দিদার হোসেন, দিদারুল আলম জাবেদ,এডভোকেট ওমর চৌধুরী, সমর্থক গোষ্ঠী সভাপতি শিবলী নোমান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান, মোঃ বেলাল, শওকত খান রাজু, মিয়া হারুন, শেখ আলম রাজু, নুর খান, সাগির আলম, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ইয়াজদী, শওকত আলী প্রমুখ।