যৌতুক, মাদক, নারী ও শিশু নিপীড়ন থামাতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং যৌতুক-মাদকের বিরুদ্ধে যুবকদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম এলজিইডি ভবনের কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে ‘যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের করনীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, র্যালী ও চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেযা খাঁন ফাযেলে ব্রেলভী (রহ.) এর ১০৮তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আ'লা হযরত কন্ফারেন্সে ০১ আগস্ট শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রজভীয়া নুরীয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ১৭তম অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী চেয়ারম্যান পীরে তরিক্বত হযরতুলহাজ¦ আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরীর (মু.জি.আ)। তিনি বলেন, যৌতুক, মাদক ও নারীর প্রতি নিত্য অবমাননা আজ বড় সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা দেখে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না। সামাজিক দায়বদ্ধতা, ঈমানি তাড়না ও মানবিক কর্তব্যবোধ থেকেই আমি ১৭ বছর পূর্বে এ আন্দোলন শুরু করেছি। সবাই আমার পাশে দাঁড়ালে আশানুরূপ সুফল মিলবে বলে আশা করি। যৌতুক-মাদক বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কন্যাদায়গ্রস্থ পরিবার ও যুবসমাজকে বাঁচাতে হবে। আলোচনা সভায় সমবেত ছাত্র যুব জনতার প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এম.পি। তিনি বলেন, সরকার একার পক্ষে সবকিছু সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনগণেরও অনেক করণীয় আছে। অথচ আমরা সে দায়িত্ব পালন করি না। সরকার সবকিছু করে দেবে এ মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন আল্লামা আবুল কাশেম নূরী গরিব মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও দ্বীনি দায়িত্ববোধ থেকে আজ যৌতুক, মাদক ও নারী নিপীড়ন বিরোধী যে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তা দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। তাঁর মতো আলেম, ইমাম, খতিব ও উলামা মাশায়েখগণ এসব সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে দেশে অনুকূল পরিবর্তন আসবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি। তিনি বলেন, যৌতুক, মাদক, নারী নিপীড়ন থামাতে হলে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। আলেম ও ইমাম সমাজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হলে যাবতীয় সামাজিক অনাচার থেকে মুক্তি মিলতে পারে। প্রধান বক্তা ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস কাজী আল্লামা মঈনুদ্দিন আশরাফী (মু.জি.আ)। তিনি বলেন, আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (রাঃ) ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃত ছিলেন। তাঁর রচিত দেড় সহ¯্রাধিক গ্রন্থের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের দিক নির্দেশনা মূলক সতন্ত্র গ্রন্থটি এক্ষেত্রে অনন্য ভুমিকা পালন করে। আ’লা হযরত শুধু ইসলামের একজন মহান সংস্কারক নয়, তিনি ছিলেন জ্ঞানের চলন্ত এক বিশ্বকোষ। উদ্বোধক ছিলেন আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দৌলতী। তিনি বলেন, আ'লা হযরতের দর্শনে সুন্নীয়তের সঠিক দিক নির্দেশনা রয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ জাকাারয়া এবং সচিব মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকীর যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক রাজিব। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর, অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি অছিয়র রহমান, বিএনপি দক্ষিণ জেলার সচিব লায়ন হেলাল, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ আমিন. অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী, আল্লামা শফিউল আলম নেজামী, চবি অধ্যাপক এসএম বোরহান উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ ইনুচ রেজভী, অধ্যক্ষ আল্লামা হাসান রেযা, আল্লামা আবুল হাসান ওমাইর রেজভী, মাওলানা ইকবাল হোসাইন কাদেরী, মাওলানা ফখরুদ্দীন কাদেরী, মুফতি গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা জয়নুল আবেদীন কাদেরী, মাওলানা গোলাম রাব্বানী কাশেমী, মাওলানা ওমর ফারুক নঈমী সহ দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদগণ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আবু ছালেহ আঙ্গুর, মুহাম্মদ মিয়া জুনায়েদ, মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান রুবায়েত, কুতুবউদ্দিন শাহ নূরী, মুহাম্মদ আবুল হাসান, মাওলানা আবুন নুর মুহাম্মদ হাস্সান নূরী, অ্যাডভোকেট ছলিম উদ্দিন খান, মাওলানা এনামুল হক এনাম, মাওলানা আব্দুল কাদের রেজভী, মাওলানা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন নূরী, মাওলানা সালামত রেযা কাদেরী, মুহাম্মদ আলমগীর, এস এম ইকবাল বাহার, মুহাম্মদ আমানউল্লাহ, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আবু ছালেহ মুহাম্মদ সাফওয়ান নূরী, মুহাম্মদ জাকির সওদাগর, মাস্টার মুহাম্মদ মাহফুজ, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ জাহেদ, মাওলানা আনোয়ার রেযা, মুহাম্মদ করিম মিয়া, মুহাম্মদ কাউছার, মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, আরিফ মুঈন উদ্দীন মনির, এইচ এম নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, মুহাম্মদ ওসমান, নুরুল হুদা মুহাম্মদ আক্কাস, মুহাম্মদ রিদওয়ান, মাওলানা ওসমান গণি, মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মুহাম্মদ বাদশাহ্ মিয়া, মাওলানা মালেক তাহেরী, মুহাম্মদ আরাফাত আলী রুবেল, মুহাম্মদ রিফাত, মুহাম্মদ ইকবাল, মাওলানা আজিম উদ্দিন, মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মুহাম্মদ নাছির, মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ সেলিম, এয়ার মুহাম্মদ, মুহাম্মদ রুহুল আমীন প্রমুখ।