উত্তরায় অবস্থিত র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাখা হয়েছিল। এরপর তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার র্যাব -১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন “বহুল আলোচিত আয়নাঘরের দেয়াল আজও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে। এটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্মম বাস্তবতা। তৎকালীন রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা কতটা ফ্যাসিবাদী ছিলেন তা এই গোপন নির্যাতনকেন্দ্রই প্রমাণ করে”।
আয়নাঘরের ভয়াবহতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভেতরের দৃশ্য অত্যন্ত ভয়াবহ। ছোট-বড় ২৯টি কামরা বা সেল পেয়েছি। এখানেই আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভিন্ন মতাদর্শের বাইরের লোকজনকে তুলে এনে বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হতো। বহু মানুষকে হত্যার পর মরদেহ গুম করে ফেলা হতো।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচার চলছে। তবে এখন পর্যন্ত গুম-খুনের শিকার প্রায় ২৫০ জনের বেশি মানুষের আমরা সন্ধান পাইনি। এর মধ্যে ইলিয়াস আলী, সুমনরাও রয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব নির্যাতনে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতে যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, যারা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন কিংবা এমন অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে সহায়তা করেছিলেন, তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি। আর এ লক্ষ্য নিয়েই আমাদের প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা একযোগে কাজ করছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও পরিচালিত হবে বলে আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে এদিন বেলা ১১টার দিকে গোপন এই বন্দিশালা পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীও অংশ নেন।