প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত, মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা পুনর্বহাল এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর দোয়েল চত্বরস্থ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল বাকী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা মিসেস রেহানা আক্তার। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মিজানুর রহমান সরকার।
সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ-কে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনের আহ্বায়ক ও সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মোঃ ফারুক হোসেন স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের পরিকল্পনা সম্পাদক মোঃ আবুল খায়ের।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, শ্যামল রায়, ডাঃ আবদুল মাজেদ, জেসমিন নাহার, মাহমুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, মহসিন মিয়া ও মাজেদা আক্তার পুতুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হামিদুর রহমান, শিক্ষা সম্পাদক মোঃ আবদুল আলীম, অর্থ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম অনিক এবং সাহিত্য সম্পাদক হাসিনা আক্তার।
কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সুভাষ চন্দ্র সিকদার, আসাদুজ্জামান রিপন, মোঃ মোশারেফ হোসেন, খন্দকার ফজলে রাব্বি, গোলাম মোস্তফা চঞ্চল, জাকির হোসেন, সুরভী সুলতানা, এম এম কবির, মোঃ মুসা কলিমুল্লাহ ও সুভাষ চন্দ্র সিকদার।
এরপর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন, শাহ আলম সরকার, মোঃ ফারুক হোসেন, কাজী সরোয়ার খান মনজু, সনাধন চাকমা, শাহীনুর আলম লিটন, মোঃ আব্বাস উদ্দিন, আতিকুল গণি আতিক, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ মেসবাহউদ্দিন বাবুল, মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ যাকারিয়া, ইসমাইল মাস্টার, মামুন, মোঃ মুজিবুর রহমান, মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ মকবুল হোসেন, সবুজ ভদ্র, মোঃ মহিবুল্লাহ, ইকবাল হাসান তুহিন, শাকিল আহমেদ, ফকির আব্দুল জলিল, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ কফিল উদ্দিন ও মোঃ ইফতেখার ইমন।
সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ সাংগঠনিক জেলা, উপজেলা ও থানা নির্বাচিতদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
শ্রেষ্ঠ সাংগঠনিক জেলা: ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, খুলনা, মেহেরপুর, কুমিল্লা জেলা পশ্চিম, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী জেলা, কুমিল্লা মহানগর, নওগাঁ, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চগড়, সিলেট মহানগর এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
শ্রেষ্ঠ সাংগঠনিক উপজেলা: মাধবপুর, শার্শা, কেরানীগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, ব্রাহ্মণপাড়া, সাঁথিয়া ও গোয়াইনঘাট।
শ্রেষ্ঠ সাংগঠনিক থানা: কদমতলী, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের মহাসচিব মোঃ মিজানুর রহমান সরকার বলেন, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যথাক্রমে ৮০ ও ২০ শতাংশ বৃত্তি কোটা নির্ধারণ করায় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাই সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা বাতিল হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষার্থীর জন্য সাম্যভিত্তিক বৃত্তি নিশ্চিত করা; সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরে প্রশাসনিক থানাকে বৃত্তির ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা; ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বৃত্তির কোটা পুনর্বহাল করা; এবং বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।