চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট-এর ৩৬তম বার্ষিক সভা আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় চবি ড. এ.আর. মল্লিক ভবনে (প্রশাসনিক ভবন) উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্বব্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
উপাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সেইসব বীর শহীদদের যাঁদের নিরন্তর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর গণআন্দোলনে শহীদ সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মাননীয় উপাচার্য। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন মাননীয় উপাচার্য। মাননীয় উপাচার্য শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি আরও স্মরণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যাঁদের শ্রমে, ঘামে এবং নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণাকর্ম ও ভৌত অবকাঠামো ক্রমশ পরিব্যপ্ত হয়েছে। জ্ঞানের আলোকসঞ্চারী সেইসব কীর্তিমান ব্যক্তিদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেন।
উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর অর্ধশতাব্দীরও অধিক ব্যবধানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অগণিত প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটেছে। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করে। নির্বাচিত সরকারের সুবিবেচনায় আমি ১৭ই মার্চ ২০২৬ তারিখ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। আমার উপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এর পাশাপাশি স্মরণ করছি জুলাই বিপ্লবে আত্মাহুতি দেয়া অগ্রনেতা শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার থেকে জুলাই বিপ্লবে সম্পৃক্ত হয়ে অকালে ঝরে যাওয়া সম্ভাবনাময় দু'জন তরুণ শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও শহীদ ফরহাদ হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। দেশের সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী ও আঘাত প্রাপ্ত সকল ছাত্র-জনতার প্রতি আমার সহমর্মিতা সবসময় অটুট থাকবে।
দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময়ই জনগণের আশা আকাঙ্খার অনুকূলে অবস্থান নিয়েছে। উদ্ভূত সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানও নিরলসভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আপনাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সক্ষম হবো। আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ ও সুচিন্তিত মতামত আমাদের প্রত্যাশা পূরণে তাৎপর্যবহ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আমাদের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, IQAC-এর উদ্যোগে ত্রিশটিরও অধিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় Outcome-Based Education তথা OBE পদ্ধতি এবং অভিন্ন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পদার্পন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একযোগে এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
গবেষণা ও শিক্ষার মান সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল ধরনের সহায়তার মাধ্যমে গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতীতে অনুষদের শিক্ষকবৃন্দকে গবেষণায় নিয়োজিত রাখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালনা করেছে। উল্লেখ্য যে, এই গবেষণা সেল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শিক্ষকদের গবেষণা অনুদান খাতে ১০ কোটি টাকা, এম.ফিল. ও অন্যান্য খাতে ৬৭ লক্ষ টাকা এবং পিএইচ.ডি. ও মাস্টার্স থিসিস খাতে অর্থ অনুদান চলমান রেখেছে। আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য ২৯ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে ইউজিসি'তে প্রস্তাবনা পেশ করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ কোটি ৩৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে Teacher-Students Complex (TSC) প্রতিষ্ঠাকরণ" এবং ৬৭৮ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পেশকৃত "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমান। অতিশীঘ্রই উক্ত ২টি প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) অনুমোদনের বিষয়ে আমি আশাবাদী এবং এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদ্বয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উক্ত ২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, একাডেমিক এবং গবেষণা প্রতিবন্ধকতাসমূহ বহুলাংশে নিরসন হবে। প্রকল্প ২টির গুরুত্বপূর্ণ Component গুলোর মধ্যে TSC কমপ্লেক্স নির্মাণ, ১০ তলা বিশিষ্ট ১টি ছাত্রী হল নির্মাণ, ৩টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩টি গবেষণা পরিচালনা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, সিনেট ভবন ও ২য় প্রশাসনিক এনেক্স ভবন নির্মাণ, সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সংস্থাপন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ, এসটিপি, বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন সংস্থাপন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, অতি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস সৃষ্টির নিমিত্তে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও স্থাপনাসমূহের মেরামত ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংযুক্ত করে ব্যবহারোপযোগী করার নিমিত্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রথমোক্ত প্রকল্পের আওতায় ছাত্রদের জন্য ৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি করে (প্রতিটি ১০ তলা বিশিষ্ট) আবাসিক হল নির্মাণ, বিদেশী শিক্ষার্থী ও পিএইচডি-এমফিল গবেষকদের জন্য ০১টি হল নির্মাণ, ০৪টি ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ, কেন্দ্রীয় জাদুঘর ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগারের ২য় ভবন নির্মাণ, স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ, রসায়ন বিভাগের এডভান্সড রিসার্চ ল্যাব নির্মাণ, এডভান্সড রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্স ভবন নির্মাণ, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ ভবন নির্মাণ, জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (জিনোম সিক্যুয়েন্সিং এবং রেফারেল সেন্টারসহ) ভবন নির্মাণ, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ, কয়েকটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ, টিচার্স ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, সোলার লাইটিং সহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ফুড কোর্ট, ওয়েট মার্কেট ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত ০২ টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংযুক্ত হবে।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Higher Education Acceleration and Transformation (HEAT) Project এর আওতায় ১ম রাউন্ডে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৯ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকার ০৮ টি Sub-Project চলমান রয়েছে। এ সব Sub-Project বাস্তবায়নের মাধ্যমে Teaching-Learning পরিবেশ উন্নয়নের সাথে সাথে আনুষঙ্গিক সুবিধাসমূহ সংযুক্ত হবে। এছাড়াও কতিপয় Sub-Project চিকিৎসা ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনে এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। HEAT প্রজেক্টের আওতায় ২য় রাউন্ডে এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৫২টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই এর পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ব্যানবেইস এবং অন্যান্য এজেন্সির অর্থায়নে অনেকগুলো গবেষণা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সেবার আধুনিকায়ন সম্পর্কে মাননীয় উপাচার্য বলেন, শিক্ষা ও সেবার আধুনিকায়ন এর লক্ষ্যে Digital Network তথা High Powered Wi-Fi চালু, Internet of Things (IoT) সেন্সরড ড্যাশবোর্ড ও নিরাপত্তা ক্যামেরা, Real Time তথ্য সরবরাহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতির মাধ্যমে সংযুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যাদি Automation এর আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার আধুনিকায়ন এবং ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
মাননীয় উপাচার্য ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পেশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ভিশন এবং SDG 2030 এর Goal-4 (SDG-4) এর আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
সিনেট সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা আধুনিকায়নে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গবেষণার পাশাপশি কারিকুলামে বৈচিত্র্য আনয়ন, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার সাথে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে তাদেরকে কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিষ্ঠাচার, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, লিডারশীপ, সৃজনশীলতা প্রভৃতি বৃদ্ধির জন্য এক্সট্রা-কারিকুলাম এক্টিভিটিজের যেনো বিকল্প নেই। এর লক্ষ্যে খেলাধুলা, ক্রীড়া-প্রতিযোগিতা, সংস্কৃতিচর্চা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, বিভাগীয় টুর্নামেন্ট, আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রকলা প্রদর্শনী, অ্যালামনাইদের পুনর্মিলনী প্রভৃতি এক্সট্রা-কারিকুলাম এক্টিভিটিজের আয়োজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ে বছরব্যাপী চলমান।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সৎ ও দক্ষ মানবসম্পদ সুশাসনের অন্যতম উপাদান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সৎ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রস্তাব করেছে এবং এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রিসার্চ সেন্টার এবং IQAC চাহিদানুসারে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সৎ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরী করবেন। বিশেষ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন নিশ্চিতকল্পে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত রূপকল্প, বিভাগীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় ও মাইলফলকে পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার সংশোধিত এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৫০৩ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাছান মিয়া। সিনেট সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়।
মাননীয় উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি সম্মানিত সিনেট সদস্য মাননীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩ আসন), এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮ আসন), গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬ আসন) ও সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০ আসন)। এছাড়া সম্মানিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯) উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য সিনেট সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করেন ড. মোহাম্মদ মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাহিদা শুলশান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নিলুফা আকতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্রীথিলা নাজনীন নীলিমা, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এস.এম ফজলুল হক, জনাব শ. ম. নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর, প্রফেসর জমির উদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ ও জনাব মোহাম্মদ রেজাউল কবির। সিনেট সভায় সম্মানিত সিনেটরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সিনেট সভায় উপস্থিত মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চপস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মানিত সিনেট সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, চবি সিন্ডিকেট সদস্য, ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য, ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালকবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, প্রশাসকবৃন্দ, হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত), পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার, চবি অফিস প্রধানবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে মাননীয় উপাচার্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সিনেট সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর গত সিনেট সভার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও দেশবরেণ্য বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব পেশ করা হয়। এরপর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।