চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পৌঁছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আন্তরিকতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।
রোববার বেলা ৩টার দিকে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী সিঅ্যান্ডবি মাঠে হেলিকপ্টারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে সড়কপথে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় যান তিনি।
মাদ্রাসায় পৌঁছালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় দুজনের মধ্যে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত শুভেচ্ছা সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান।সমাবেশে মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, তদন্ত ও চার্জশিটের পর এবার এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। ফটিকছড়ির আল জমিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে আমি বলেছি, আপনারা শুধু মামলাটা করেন। বাকিটা আমি দেখব। এরপর আপনারা তথ্য দিয়েছেন, তদন্ত হয়েছে, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, বিচারও হবে।তিনি আরও বলেন, দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন হবে না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিজেদের অধিকার পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাবে।