সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে এবং তাদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে সিআরবি-তে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো: তানভিরুল ইসলাম, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী জনাব আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম মো: হারুনুর রশিদসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, আন্ত:নগর ট্রেনগুলোতে কিছু বিনা টিকিটের যাত্রী এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে ভ্রমণ করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। তারা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। টিকিট দেখতে চাইলে ৮-১০ জন একত্র হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টিকিট চেকিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এদের বিনা টিকিটে ভ্রমণ ছাড়াও সরকারি কাজে বাধা সহ চলন্ত ট্রেনে হামলার মতো ফৌজদারি অপরাধ করছে।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ০৪/০৮/২৬ তারিখে ৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫/০৭/২৬ তারিখে ৭২৬ নম্বর সুন্দরবন ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা সন্ত্রাসী হামলা করেন। এ ছাড়া গত ০৭/০৮/২৬ তারিখে ৭৫৩ নম্বর সিল্কসিটি ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যায়। তাদের ন্যূনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- এসব ঘটনার ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মানববন্ধনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। গত ০৭/০৮/২৬ তারিখসহ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অফিস কক্ষেও কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা হেনস্তা ও হুমকির শিকার হচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
একই বিষয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়েও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।