টেকনাফের অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে জরুরি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিলো টেকনাফ সমিতি চট্টগ্রাম

টেকনাফের অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে জরুরি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিলো টেকনাফ সমিতি চট্টগ্রাম

টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার দমনে জরুরি রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রামস্থ টেকনাফ সমিতি। আজ ১৭ই আগস্ট ২০২৬ দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রেরিত স্মারকলিপিতে ৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া আজ দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক চোরাচালান, রোহিঙ্গা সমস্যা, মানবপাচার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাস এবং সীমান্তকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম অনিরাপত্তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। নারী-শিশু, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী—কেউই আজ নিরাপদ নন। অনেক পরিবার মুক্তিপণ দিয়ে তাদের স্বজনকে ফিরিয়ে আনছে, আবার অনেকে স্বজনের লাশ ফিরে পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই একটি আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সীমান্ত দিয়ে মাদক ও মানবপাচার, দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র অপরাধ, একই সময়ে মুক্তিপণজনিত হত্যাকাণ্ড এবং পাহাড় থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান এখনও নিশ্চিত হয়নি।

স্মারকলিপিতে পেশকৃত দাবির মধ্যে রয়েছে-
১. টেকনাফ-উখিয়া উপজেলাকে বিশেষ অপরাধপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণা করে সমন্বিত স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

২. অপহরণ, মাদক, মানবপাচার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত লক্ষ্যভিত্তিক যৌথ অভিযান পরিচালনা।

৩. দুর্গম পাহাড়, সীমান্ত, নাফ নদী ও সাগরপথে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তি (ড্রোন, নাইট ভিশন, সিসিটিভি) ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি ও সেনা ক্যাম্প স্থাপন।

৪. অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, মাদক ও মানবপাচার মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পৃথক আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন।

৫. সীমান্ত অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ টেকনাফ সমিতির সভাপতি মুখতার আহমদ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রফিক উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম, রাখাইন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মং হলা সিং, সিআইপি এ.এম. জিয়াবুল, কবি আলী প্রয়াস, নুরুল আবছার প্রমুখ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email