
রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরে সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। তবে পাশের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। রাস্তার দুই পাশে পুলিশ মোতায়েন ছিল, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়।
এর আগের দিন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এই শপথের আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী থাকায় সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
বর্তমান সংসদে সদস্য সংখ্যা ৩৪৯ জন হলেও নির্বাচনে ভোট দেন ৩৪৩ জন সদস্য। ভোটের ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। অর্থাৎ, বেশ বড় ব্যবধানেই জিতেছেন মির্জা ফখরুল।
নির্বাচনে জেতার পরদিনই তিনি শপথ নেন, আর শপথের পরদিনই ছুটে যান স্মৃতিসৌধে। এই ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন নতুন রাষ্ট্রপতি।


