
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী পদ্ধতিতে ধুঁকতে থাকা বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির মূলধারায় আনা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়াতে নানামুখী কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্প্রতি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কেবল একটি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বার্তা দেয় না, বরং তা দেশের বিশেষায়িত ব্যাংকিং খাতের আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের একটি নতুন পথপ্রদর্শক অধ্যায়ের সূচনা করছে।
নতুন প্রধান বিষয়সমূহআইসিটিকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর: সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সিস্টেম) চালুর মাধ্যমে এনপিএসবি, বিএসিএইচ এবং বিইএফটিএন-এর মতো জাতীয় আধুনিক পেমেন্ট গেটওয়েতে ব্যাংকের সরাসরি সংযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
বিশেষায়িত প্রকল্পে অর্থায়ন (সঞ্জীবন প্রকল্প): নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রি-ফাইন্যান্স ও রি-ফাইন্যান্স সুবিধার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারিগরি ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি: দ্রুততম সময়ে (তিন মাস) বিএসসির মাধ্যমে ২০৫টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক তৈরিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক কৌশলগত অবস্থান
ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ: বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আর্থিক খাতকে ক্যাশলেস ও স্বয়ংক্রিয় করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে এনপিএসবি ও বিইএফটিএন ব্যবস্থার আওতায় এনে সাধারণ গ্রাহকদের মূলধারার ব্যাংকিং সুবিধায় যুক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত খাতের আমূল পরিবর্তন: কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমকক্ষ প্রযুক্তিগত কাঠামো প্রদান করা হচ্ছে, যাতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রুত তহবিল স্থানান্তর নিশ্চিত হয়।
প্রযুক্তিগত কাঠামোর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি: কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর প্রধান শর্তই হলো দক্ষ মানবসম্পদ। দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে কেবল জনবল ঘাটতি পূরণ নয়, বরং আইটি-বান্ধব তরুণ ব্যাংকার নিয়োগের দিকেই বিএসসি নজর দিচ্ছে।ভবিষ্যৎ প্রভাব ও চ্যালেঞ্জসম্ভাবনার দিকদূরীকরণের চ্যালেঞ্জতাত্ক্ষণিক লেনদেন: প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা বাহিনীর সদস্যরা সহজেই সরাসরি অ্যাকাউন্টে বেতন ও ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
সাইবার নিরাপত্তা: কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে স্থানান্তরের সময় তথ্য সুরক্ষা ও শক্ত সাইবার ফ্রেমওয়ার্ক নিশ্চিত করা।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: 'সঞ্জীবন প্রকল্প'-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হবে।
দক্ষতা বৃদ্ধি: নতুন সিবিএস ও ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহারের জন্য বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদান।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের এই আধুনিকায়ন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের অন্যান্য বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি যুগান্তকারী মডেল হিসেবে কাজ করবে।