
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে দ্বীপ জেলা ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে প্রস্তাবিত ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা’ রুটে একটি নতুন উন্নত মহাসড়ক নির্মাণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীতি হয়।
সভায় ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বরিশাল বিভাগীয় সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ৩টি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর বরিশাল অঞ্চলের ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা’ অংশটিকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং কার্যকরী রুট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই রুটে সমন্বিত প্রক্রিয়ায় মহাসড়ক ও প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে পুরোপুরি মূল জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ভৌগোলিক সীমানার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের একটি বড় অংশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবাহ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না থাকে। ভোলা অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে আমাদের দ্রুত সমন্বিত পথ তৈরি করতে হবে।" প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা (Feasibility Study) ও দ্রুত বাস্তবায়নের আইনি এবং প্রকৌশলগত কাজ জোরকদমে শুরু করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকল্প পরিকল্পনা সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে বিদ্যমান গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোকে মহাসড়কে উন্নীত করে প্রশস্ত করার পাশাপাশি কিছু নতুন লিংক রোড তৈরি করা হবে। মূল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যাত্রাপথে তিনটি ছোট ও মাঝারি আকারের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ভোলার জনগণকে আর কেবল অনিশ্চিত নৌপথ বা দীর্ঘ জটিল ফেরি সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
উক্ত নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান সহ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।