,

সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে– ভূমি প্রতিমন্ত্রী

সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে-- ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়।সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনজীবী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আজ শনিবার চট্টগ্রামের হালিশহর সিভিক সেন্টারে জেলা পুলিশ বিভাগ আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও নৃশংস ঘটনার পেছনে কোনো না কোনোভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশেষত কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভয়াবহ সামাজিক সমস্যার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে। মাদক মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি ও মন-মানসিকতাকে বিকৃত করে এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিমন্ত্রী ধর্মীয় নেতা ও আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকের কুফল ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে হবে। একইভাবে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সংবাদকর্মীদেরও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে একে অপরের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলো আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অন্যায় সুবিধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোর ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ও চর্তুথ ভাষা শেখার সুযোগ, খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী, কিশোর ও তরুণদের মাদকের ভয়াবহ পরিণতি থেকে দূরে রাখা যায়।
আয়োজিত সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তৃতা করেন।সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।