
হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের কোন দূরত্ব নেই,প্রধানমন্ত্রী সহ অনেক মন্ত্রীরা হেফাজত আমীরের সাথে সাক্ষাতে এসেছেন,যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই এই ব্যবধান কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের আপত্তিকে সরকার চাপ হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তিনি বলেন, এসব আপত্তি ও পরামর্শকে সরকার গঠনমূলক হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের ভুলত্রুটি এড়াতে এ ধরনের গঠনমূলক চাপ থাকা প্রয়োজন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো দায়িত্বে এর আগে আমি ছিলাম না। তাই দেশের ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটানোকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন বিষয়ে যে পরামর্শ, চাপ বা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সরকারের কাছে আসে, সেগুলোকে চাপ হিসেবে না দেখে গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে দেখা হয়। সরকারের মাধ্যমে যাতে কোনো ভুলত্রুটি না হয়, সে জন্য এ ধরনের গঠনমূলক চাপ থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহর সঙ্গে আমার নিজেরও দেখা করার খুব শখ ও ইচ্ছা ছিল। আল ইলমু লা ইয়ুজার, বাল ইউজার—জ্ঞান কারও কাছে এসে পৌঁছায় না, বরং জ্ঞানের কাছে যিয়ারত করে যেতে হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমার চিন্তা ছিল যত দ্রুত সম্ভব তার কাছে এসে দেখা করে দোয়া নিয়ে যাওয়া।’
শামিম কায়সার লিংকন বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। অনেক সময় ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারেরও নজির দেখা যায়। এসব বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তার কাছে এসে দোয়া নেওয়া এবং পরামর্শ নেওয়াকে আমি আমার দায়িত্ব মনে করি। এ কারণেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’