
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরের পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে পুরাতন রেলস্টেশন চত্বর থেকে র্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালদিঘী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, বীরশ্রেষ্ঠদের এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে র্যালিটি বর্ণাঢ্য রূপ নেয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এমপি-এর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা গর্তে নিমজ্জিত ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে সরকার গঠন করেছি।” দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে। তিনি দেশের মানুষের স্বার্থে যে বিশাল অংকের বাজেট দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের সরকার সেই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার পরিচালনায়ও দলের নেতাকর্মীদের অতীতের মতো সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ কিংবা দখলদারকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অপরাধীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশ যখনই কঠিন কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, বিএনপি তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই সংকট থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমান সময়েও আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। দল ও দেশের মধ্যে দেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়ে গেছেন। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই আদর্শকে ধারণ করেছেন। সেই রাজনৈতিক শিক্ষা ও আদর্শকে সামনে রেখে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও জনগণের কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র মানেই তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র - মাহবুবের রহমান শামীম
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেমন আনন্দের, তেমনি বেদনারও। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, কেউ শহীদ হয়েছেন, কেউ খুন হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের ত্যাগের কারণেই আজ আমরা একটি প্রতিবন্ধকতামুক্ত পরিবেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও সমাবেশ করতে পারছি। তাই এই দিনে তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজ জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র মানেই তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র। তাই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। সেই আদর্শ ও কর্মসূচিকে ধারণ করেই বিএনপির দীর্ঘ পথচলা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির শিক্ষা দিয়েছেন শহীদ জিয়া - মীর হেলাল
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অটল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির যে ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়ার সেই রাজনৈতিক দর্শন আজও বিএনপির নেতাকর্মীদের পথ দেখায়।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের প্রত্যয় হতে হবে—শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এমপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল ও বর্ণাঢ্য হয়েছে। আগামী দিনেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এস এ নাজিম উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, সাঈদ আল নোমান এমপি এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।
নগর বিএনপির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এম এ হান্নান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইসকান্দর মির্জা, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মুজিবুল হক, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, সালাউদ্দিন, গাজী সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মশিউর আলম স্বপন, মোশারফ হোসেন ডিপ্টি, মোহাম্মদ জাফর আহমেদ, এ কে খান, গাজী আইয়ুব, মাহাবুব রানা, এম এ সবুর, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, মোহাম্মদ আজম, মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউসুফ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক দল নেতা নুরুন্নাবাহার, বিএনপি নেতা এস কে খোদা তোতন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, নগর ছাত্রদলের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু, সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি, তাঁতী দলের সেলিম হাফেজ ও মনিরুজ্জামান মুরাদ, মৎস্যজীবী দলের অ্যাডভোকেট আজিম, ওলামা দলের সভাপতি মওলানা শহিদুল্লা চিশতী, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।