চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল প্রশাসন ও হল সংসদের যৌথ উদ্যােগে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে এক স্মরণ সভা সন্ধ্যা ৭টায় প্রীতিলতা হলের ডাইনিং রুমে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দিনব্যাপী হল প্রাঙ্গণে আর্ট এক্সিবিশন, বীরকন্যা প্রীতিলতার জীবনীর ওপর রচনা প্রতিযোগিতা এবং ঈদে মিলাদুন্নবী ও ফাতেমা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট ও হল সংসদের সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ মেজবাউল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার শুধু একজন বিপ্লবী যোদ্ধা ছিলেন না; তিনি ছিলেন অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সাহসের এক অনন্য প্রতীক। মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রীতিলতা এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা আমাদের আজও বিস্মিত করে। ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পর তাঁর সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন প্রীতিলতা। তিনি বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীরা, প্রীতিলতার জীবন থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি হলো—প্রতিকূলতা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রীতিলতা বিশ্বাস করেছিলেন, ‘আমি পারব।’ সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে ইতিহাসের অংশ করে তুলেছে। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এমন আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় বক্তব্য রাখেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তাসলিমা আকতার ও চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এ.এফ রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরী, পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম, প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষক রুমানা আকতার, রাবেয়া আকতার, মোসাঃ সাদিয়া আফরিন ও আরিফ উল্লাহ, হল সংসদের ভিপি নুসরাত জাহান তৃণা, জিএস নাদিয়া সুলতানাসহ হল সংসদের অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ এবং হলের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা ও আর্ট এক্সিবিশনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া চবি আন্তঃহল ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন প্রীতিলতা হলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়।