,

ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকালও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এতদিন তারা এখানেই লুকিয়ে ছিল। তাহলে আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল? পুলিশের গোয়েন্দা সহায়তাকে আমি সবচেয়ে উত্তম মনে করি। অন্যান্য সংস্থার গোয়েন্দা সহায়তাও আমি তুলনা ও যাচাই করার জন্য নিই। আপনাদের গোয়েন্দা সহায়তা আপনারা কাজে লাগান।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এক মাসে এ দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারে, আসমান থেকে গুলি করে দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে পারে, যারা বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে দলীয়করণ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, সেই শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো আহ্বান জানাবে? এ দেশের মানুষ কখনো চাইতে পারে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি করুক?

তিনি আরও বলেন, যারা সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের পরেও কোনোদিন দুঃখ প্রকাশ করেনি, অনুশুচনা করেনি, ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে আওয়াজ দিচ্ছে।

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের কাছে অফিশিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি অ্যাজ পার এক্সট্রাডিশন ট্রিটি যে, আপনারা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের ফেরত দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। তারা যদি স্বেচ্ছায় আসে, আইনের মুখোমুখি হয়, তাহলে তো ভালো। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, আইনের নিজের কোর্স অনুযায়ী চলবে।

অনুষ্ঠানে ৯৮ পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।