
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওলামা দলের নেতাকর্মীদেরও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেছেন, ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ধর্মের নামে মানুষের কাছে ‘বেহেশতের ঠিকানা’ বিক্রির চেষ্টার বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি নিজে মুসলমান, ধর্মকর্ম করি। কিন্তু রাজনীতির জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না। ওলামা দলের নেতাদেরও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হলরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম বলেন, কে বেহেশতে যাবে আর কে যাবে না, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই ধর্মের কথা বলে কেউ যেন মানুষের কাছে বেহেশতের নিশ্চয়তা বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে শুধু ওলামা দল নয়, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকেও সচেতন হতে হবে। ওলামা দলকে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। এ ধরনের কার্যক্রমে ওলামা দলের নেতাদের সম্পৃক্ত হলে সংগঠনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়বে।
বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে শামীম বলেন, গত ১৭ বছর যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে রাজনৈতিকভাবে সামনে আসতে হলে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে এবং তাঁদের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। বিএনপিতে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অপকর্মকারী ও জবরদখলকারীদের কোনো জায়গা হবে না। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। কোনো ষড়যন্ত্রের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্য চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল বিএনপির একটি স্বনামধন্য ও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ওলামা দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় দলের অনেক নেতাকর্মী নির্যাতন, হামলা-মামলা ও নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ওলামা দলের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের কাছে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে ওলামা দলকে আরও সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আলেম-ওলামাদের সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদ-মাদ্রাসাকেন্দ্রিকভাবে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও যোগ্য সংগঠক তৈরি করে ওলামা দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ওলামা দল দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।
জাতীয়তাবাদী ওলামা দল চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মাওলানা মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ চিশতির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, মাওলানা সাইফুল আলম, মাওলানা মো.আলী সরকার
মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা মোসাদ্দেক হোসেন, মাওলানা সলিম উদ্দিন, মাওলানা ওয়াহিদুল হক, মাওলানা আশেক উল্লাহ,হাফেজ আমিনুল হক, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা রিদওয়ানুল হক ও মাওলানা মহিউল হক প্রমুখ।







