চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় এ বছর ১৩৮টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সব মানুষের অংশগ্রহণে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রাউজানের গহিরায় নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও উদযাপনের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাউজান পৌরসভাস্থ জগন্নাথ মন্দিরে দুর্গাপূজার শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সাংবাদিক প্রদীপ শীলের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তিনি জানিপাথর দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পূজা উদযাপনের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম বৃহৎ পূজার আয়োজন হয়ে থাকে রাউজানে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা: উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পূজা উদযাপনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরে পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতাদের একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও স্থানীয় নেতারা বৈঠক করেছেন। এসব সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিএনপির মনিটরিং সেল:
প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের লক্ষ্যে রাউজান সদর ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ সেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মনিটরিং সেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুরুল হক মঞ্জু এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল। তাঁরা পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবের সুলতান কাজল বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন। কোথাও যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমরা চাই, রাউজানের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হোক।
নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী পূজা উদযাপন ফ্রন্ট:
রাউজান পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন মহাজন লিটু বলেন, এখন পর্যন্ত রাউজানে পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পূজা উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সভা ও সমন্বয় করছেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পূজা উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সহযোগিতা করছেন। পূজামণ্ডপগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় রাউজানের ১৩৮টি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ:
প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন পরিষদ, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের এসব উদ্যোগে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। দুর্গাপূজা যেন সবার অংশগ্রহণে আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় রাউজানের ১৩৮টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও উৎসবের আবহে উদযাপিত হবে।