
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভুয়া এসআরবি সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন- চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, মিজানুর রহমান, জয়নাল উদ্দিন, মো. আব্বাস উদ্দিন, মো. ছলিম ওরফে সেলিম এবং দেলোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী থানার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে এহছানের মালিকানাধীন মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তাদের পরনে ছিল কালো পোশাকের ওপর এসআরবি লেখা কটি, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক। তারা নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে দোকানের ক্যাশে বসা এহছানকে তার যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
একপর্যায়ে এহছান নিজের পরিচয় দিলে অপহরণকারীরা তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরান। পরে টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপহরণের পর ওই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে এহছানের স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এহছানের ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল জানান, গত ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহৃত এহছানকে উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় এসআরবিতে কর্মরত ছিলেন। সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন। কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরে তিনি ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর সুমন ও তার সহযোগীরা ভুয়া এসআরবি পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র-সংক্রান্তসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি, জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনুর বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের তিনটি এবং ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, এসআরবি লেখা পাঁচটি কালো কটি, দুটি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে।







