বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেছেন,বন্ধ বস্ত্রকল, পাটকল ও টেক্সটাইল মিলগুলো চালু করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এসব শিল্পকারখানাকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম আমিন জুট মিলস্ লিঃ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মিলকে উৎপাদনমুখী করার সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। মিলটির বিদ্যমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন,সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শিল্প খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিল্প খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের শিল্প খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারখানা কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করার পথ সুগম হবে। আমিন জুটমিল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন এই মিলসকে কীভাবে পুনরায় উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়, কীভাবে এই মিলের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় এবং দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের শিল্পকারখানা গুলোকে শুধু অবকাঠামোগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; এগুলোকে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কার্যকর কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে শিল্প কারখানাগুলো চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরো উল্লেখ কররন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। পাট ও পাটজাত পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পাটশিল্পকে আরো গতিশীল করা গেলে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে আমিন জুট মিলসসহ দেশের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।দেশের শিল্প খাতকে গতিশীল করা, বন্ধ কলকারখানার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়াই সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এসময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আমিন জুট মিলস্ এর কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।