
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর, অহিংস মতবাদের ধারক, সুশিক্ষার প্রসারে দক্ষ, মুক্তবুদ্ধি চর্চার মনীষী। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা তার অন্যতম কীর্তি। তিনি আমাদের ইতিহাসের এক অমর নাম। তাঁর মৌলিক চিন্তার ফসল আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে নতুন দিক-নির্দেশনা প্রদান করে। আমাদের জাতিসত্তা বিনির্মাণে তার অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় খচিত হয়ে থাকবে। তিনি তুলে ধরেছেন ভারতবর্ষে ইসলামী সভ্যতার উৎকর্ষ এবং বিকাশের তাত্ত্বিক ও তথ্যপূর্ণ বিবরণ। ভারতের সভ্যতার বিশাল আঙ্গিনা জুড়ে মুসলমানদের যে প্রভূত অবদান তার বর্ণনা আছে তার গ্রন্থে। মুসলমানদের ঐক্যে সচেতন করে তোলাই ছিল মাওলানা ইসলমাবাদীর কর্মপ্রয়াস। তিনি বিশ্বাস করতেন খেলাফতের পতনের কারণেই মুসলিম সমাজে নেমে আসে অন্ধকার। খেলাফত পুনর্জীবিত করার মাধ্যমেই বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-সমৃদ্ধি, সমৃদ্ধি সম্ভব। তিনি খেলাফত আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহ ও নারী-নির্যাতন রোধ, সমাজের কু-সংস্কার নিরসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন উদগ্রীব ছিলেন এই মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এতদঞ্চলে জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি একটি শিক্ষিত, জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
তিনি আজ ২৪ অক্টোবর কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা’র উদ্যোগে মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক, উপমহাদেশে মুসলিম সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, শিক্ষা সম্প্রসারণের অন্যতম অগ্রদূত, অবিভক্ত ভারতের খ্যাতিমান মনিষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’র ৭৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সি: যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চবি অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির, চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কদম মোবারক মুসলিম এতিম খানার সিনিয়র সহ সভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহ সভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ, মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সমম্পাদক প্রফেসর ডাঃ পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মোঃ সানা উল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ আলা উদ্দিন আলী নূর, প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদক ওয়াকিল আহমদ সিকদার, সাধারণ সদস্য এডভোকেট মোঃ আকতার, আলহাজ্ব মোঃ এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী, মোঃ হুমায়ুন খান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ. এম. এস ইসলামাবাদী (গাজী), মতোয়াল্লী সদস্য আজাদ উল্লাহ খান, দাতা সদস্য নুরুল আমিন কবির, সাধারণ সদস্য (প্রধান শিক্ষক) মোঃ আবু জহুর প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, বাদে ফজর খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, মুনাজাত, কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরন প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বিন¤্র শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।







