,

রাতে ব্যালন ডি’অরের আয়োজন, জানা যাবে যেসব তথ্য

রাতে ব্যালন ডি’অরের আয়োজন, জানা যাবে যেসব তথ্য

ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় জানা যাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা ফুটবলার হিসেবে কার হাতে উঠছে এই পুরস্কার। পুরুষদের বিভাগে আলোচনায় রয়েছেন হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপে। নারী বিভাগে স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেল্লাস তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন। এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকীও উদ্‌যাপন করা হবে। প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আয়োজন।

ব্যালন ডি’অর কী?

আগের মৌসুমে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একজন ফুটবলারকে দেওয়া হয় ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের দুই লেখক গ্যাব্রিয়েল হানোত ও জ্যাকস ফেরান এই পুরস্কারের প্রচলন করেন।

শুরুতে কেবল ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের এ পুরস্কার দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সাল থেকে ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের সব পেশাদার ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান।

নারী ফুটবলারদের জন্য ব্যালন ডি’অর চালু হয় ২০১৮ সালে। প্রথমবার এই পুরস্কার জেতেন আদা হেগারবার্গ।

ফ্রান্স ফুটবল ও লেকিপের মালিক গোষ্ঠী আমরি এবং উয়েফা ২০২৪ সাল থেকে যৌথভাবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণ করেন কারা?

পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের জন্য ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক নিয়ে আন্তর্জাতিক জুরি গঠন করা হয়। নারী বিভাগের ক্ষেত্রে শীর্ষ ৫০ দেশের একজন করে সাংবাদিক বিজয়ী নির্বাচনে ভোট দেন।

ভোট দেওয়ার পদ্ধতি

৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে প্রতিটি জুরি সদস্য সেরা ১০ খেলোয়াড়কে পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। এরপর ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদকীয় কর্মী, লেকিপের সম্পাদকীয় দলের সদস্য, আগের আসরের জুরির অন্তত একজন সদস্য এবং পুরুষদের পুরস্কারের ক্ষেত্রে উয়েফার দূত লুইস ফিগো ও ফাবিও ক্যাপেলো এবং নারীদের ক্ষেত্রে নাদিন কেসলার তালিকাটি সংকলনে যুক্ত থাকেন।

ভোটে নির্বাচিত ১০ খেলোয়াড়ের অবস্থান অনুযায়ী পয়েন্ট দেওয়া হয় যথাক্রমে ১৫, ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১। সব ভোট গণনার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।

ভোটের মানদণ্ড কী?

পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয় পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স। এবারের মূল্যায়নের সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত।

খেলোয়াড়দের মূল্যায়নে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এগুলো হলো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ম্যাচের ফল নির্ধারণে অবদান ও অসাধারণ পারফরম্যান্স; দলীয় সাফল্য ও অর্জন; এবং খেলার মান ও ন্যায্যতা।

ব্যালন ডি’অরে কারা আলোচনায়?

এবারের পুরুষ বিভাগের লড়াইকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপে প্রকাশ্যেই নিজেদের ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তাদের এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেননি অনেক বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলার।

জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হ্যারি কেইনের বক্তব্য, গোলের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে কে এগিয়ে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ৩৯ বছর বয়সে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলে তা হবে নতুন এক রেকর্ড।

ফ্রান্সের অনেকের প্রত্যাশা, এবার পুরস্কারটি প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কোনো খেলোয়াড়ের হাতে উঠবে। ক্লাবটির সাফল্যের কারণে খভিচা কভারাতস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে ও ফ্যাবিয়ান রুইজের নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি স্পেনের ইয়ামাল ও বিশ্বকাপজয়ী রদ্রিকেও সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে।

তবে বাজির বাজারে হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তার পরেই রয়েছেন ইয়ামাল ও এমবাপে। শীর্ষ পাঁচের বাকি দুই স্থানে আছেন মেসি ও রদ্রি।

নারী বিভাগে কে জিততে পারেন?

নারীদের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে স্পেনের অধিনায়ক অ্যালেক্সিয়া পুতেল্লাসকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বার্সেলোনায় থাকার সময় তিনি লিগা এফ ও চ্যাম্পিয়নস লিগসহ চারটি শিরোপা জিতেছিলেন।

২০২১ ও ২০২২ সালে ব্যালন ডি’অর জেতা পুতেল্লাস বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়োনেসের হয়ে খেলছেন। তিনি সতীর্থ ও বর্তমান বিজয়ী আইতানা বোনমাতির তিনবার এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।

এবারের নারী বিভাগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন ইংলিশ সুপার লিগে টানা তৃতীয় মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যানচেস্টার সিটির খাদিজা শ, চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা বার্সেলোনার এওয়া পাজোর এবং লিওঁর হয়ে ট্রেবলজয়ী মেলচি দুমোরনে।

কখন ও কোথায় হবে আয়োজন?

ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের বাইরে যুক্তরাজ্যে আয়োজন করা হচ্ছে অনুষ্ঠানটি। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে প্রায় দুই হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি উইঙ্গার স্ট্যানলি ম্যাথুসকে সম্মান জানাতেই তার দেশে এবারের আয়োজন করা হচ্ছে।

পুরস্কারের জন্য মনোনীত খেলোয়াড়, কোচ ও অন্যান্য তারকারা বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে লালগালিচা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এর দুই ঘণ্টা পর শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। সঞ্চালনায় থাকবেন ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি এবং ক্রীড়া সাংবাদিক কেট স্কট। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন মার্কিন র‌্যাপার ফ্রেঞ্চ মন্তানা ও ইংলিশ গায়িকা জর্জা স্মিথ।

যেভাবে দেখা যাবে অনুষ্ঠান

এশিয়ার কোনো অঞ্চলের টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে বেশির ভাগ দেশে বিনা মূল্যে সরাসরি সম্প্রচার করবে ডিএজেডএন। পাশাপাশি ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে।

সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কে?

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার পুরস্কার জিতেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা চারবার এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। ফ্রান্স ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে ২০২৫ সালের বিজয়ী। এর আগের বছর পুরস্কারটি জিতেছিলেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি।

এবার আরও যেসব পুরস্কার দেওয়া হবে

সোমবারের অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী বিভাগের ব্যালন ডি’অরসহ মোট ১৩টি পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে—

পুরুষ ও নারী ব্যালন ডি’অর।

পুরুষ ও নারী কোপা ট্রফি—অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়দের জন্য।

পুরুষ ও নারী ইয়াশিন ট্রফি—সেরা গোলরক্ষকের জন্য।

পুরুষ ও নারী গার্ড মুলার ট্রফি—সেরা স্ট্রাইকারের জন্য।

পুরুষ ও নারী ইয়োহান ক্রুইফ ট্রফি—সেরা কোচের জন্য।

পুরুষ ও নারী বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কার।

সক্রেটিস পুরস্কার—মানবিক কাজ, দাতব্য প্রকল্প ও সামাজিক সংহতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।