,

ধর্মের নামে বিভক্তি সৃষ্টি করছে কিছু দল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মের নামে বিভক্তি সৃষ্টি করছে কিছু দল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামী শাসনব্যবস্থা বা শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার কথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মুখে এক কথা বললেও এসব দলের দলিল-প্রমাণ ভিন্ন কথা বলে। ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করে তারা দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করছে।নিজেদের ইসলামী আদর্শের দল দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ্দীন’ শব্দটি বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ওই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ হামলা, মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপন করা হবে।
গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অস্থিরতা তৈরির পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করা যাবে না।

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় তার দল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ থেকে ১৭ বছরের শাসনামলে আলেম-ওলামাসহ দেশের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনায় বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। তাদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনা না করা পর্যন্ত দেশের মানুষ তাদের রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সরওয়ার আলমগীর ও হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ অন্যরা।