ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবুল কাশেম এবং সঞ্চালনা করেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব আবদুল মন্নান। এ সময় বোর্ডের বিভিন্ন শাখাপ্রধানসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এই দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে জনগণ এ ধরনের ঐতিহাসিক দিবস থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করতে কখনোই ভুল করেনি। ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জনগণকে যেভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও তেমনি জাতিকে অনিশ্চয়তা থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জনগণ ও সামরিক বাহিনী ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো স্বৈরশাসকের পক্ষেই ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছায় রাজনীতিতে আসেননি; সময়ের প্রয়োজনে এবং জাতির সংকটে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। জিয়া পরিবারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে এই পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনে তারেক রহমানের ভূমিকা এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক শিক্ষা আমাদের জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও অগ্রযাত্রার প্রেরণা হয়ে থাকুক।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবুল কাশেম উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।