চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) একদিনে মোট ৫ হাজার ১৯ টিইইউএস (বিশ একক কনটেইনার) হ্যান্ডলিং করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১০১ টিইইউএস আমদানি ও ২ হাজার ৯১৮ টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৭ জুলাই থেকে এনসিটি-২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর বার্থের অপারেটরের দায়িত্ব পান সিডিডিএল। এরপর থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, দক্ষ জনবল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৯০৩ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে, যা পূর্বের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। সিডিডিএল দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৯ দিনে মোট ১,৭৪,৯৩১ টিইইউএস হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অপারেটরের সমপরিমাণ সময়ের তুলনায় ৪৬.৬৬ শতাংশ বেশি। চলতি মাসের ১ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হ্যান্ডলিং হয়েছে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২১৭ টিইইউএস।
২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৮ আগস্টের পাঁচ বছরের (২০২২ বাদে) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধানতম টার্মিনাল এনসিটির কার্যক্রমে পুরো বন্দরের গতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর ৯ হাজার ৩৯৫ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৫৫০, ২০২৩ সালে ৮ হাজার ৫৬২, ২০২১ সালে ৮ হাজার ৪৩৭ এবং ৮ হাজার ৬৭০ টিইইউএস হ্যান্ডেলিং হয়েছিল। চার বছরের গড় হিসেবে এটি প্রায় ৮ হাজার ৫৫৫ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডর মো. বেনজির মাহমুদ বলেন, ‘সিডিডিএল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এনসিটির কার্যক্রমে আমরা দক্ষতা ও গতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং টিমওয়ার্ক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন। এ ধারাবাহিকতা দেশের বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর্মকর্তারা জাহাজ পয়েন্ট, ডেলিভারি পয়েন্ট, এপ্রাইজমেন্ট পয়েন্ট, সিএন্ডএফ শেড ও গেটসমূহে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জটিলতা আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে এসেছে। চট্টগ্রাম ড্রাই ডকের এ কার্যকর ভূমিকা দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, সুশৃঙ্খল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও আমরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ।’