বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া

সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদে এই দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

জুমার নামাজের আদায়ের পর ইমাম ও খতিবের নেতৃত্বে মুসল্লিরা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করেন। তারা দোয়ায় তার জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং পরকালীন মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি শোকাহত পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং অনুসারীদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি প্রার্থনা করা হয়।

দোয়ার সময় মুসল্লিদের অনেককেই আবেগাপ্লুত অবস্থায় চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। দোয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত এই দোয়া তারই অংশ।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশজুড়ে আজকের এই বিশেষ দোয়ার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের দপ্তর ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পালিত হবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীন সব দপ্তর ও কার্যালয়ে তিন দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদারকি করবেন।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, মসজিদভিত্তিক দোয়া অনুষ্ঠান যেন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় ইমাম ও মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হওয়ায় সারাদেশে একই সময়ে এই দোয়া আয়োজনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্মিলিতভাবে দোয়া করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। ছেলে তারেক রহমান স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

দাফনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। শোকার্ত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জানাজাকে অনেকেই ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জানাজা’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email