,

চূড়ান্ত হলো ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’

চূড়ান্ত হলো ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’
চূড়ান্ত হলো ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে যারা বুকের রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন, সেই বিপ্লবীদের নিরাপদ রাখতে বিশেষ ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করেন।

বীরদের সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। এই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা আত্মরক্ষার্থে এবং দেশকে মুক্ত করতে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সশস্ত্র পেটোয়া বাহিনী ও ‘খুনিদের’ বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল, তার জন্য যেন তাদের কোনো আইনি হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট ভাষায় জানান, জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসনমুক্ত করেছেন। আন্দোলনের সময় তাদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ফ্যাসিবাদী খুনিদের হাত থেকে জনতাকে রক্ষার তাগিদে। ফলে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা প্রদান করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

নজির ও বৈধতা অনেকে দায়মুক্তি অধ্যাদেশের নাম শুনে বিভ্রান্ত হতে পারেন, তবে ড. আসিফ নজরুল এর সাংবিধানিক এবং ঐতিহাসিক যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের বৈধতা দেওয়া আছে। অর্থাৎ, জনস্বার্থে বা রাষ্ট্রীয় বিপ্লবের প্রয়োজনে এ ধরনের আইন করা সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এটি বাংলাদেশে প্রথম নয়। ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্যও অনুরূপ দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল।

এবারের অধ্যাদেশটি সেই মহান ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আরব বসন্তসহ সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন সফল গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এ ধরনের রক্ষাকবচ প্রদান করার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে।

ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র রুখতে প্রতিরোধ বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পরাজিত শক্তির দোসররা বিভিন্নভাবে মামলার ভয় দেখিয়ে বা আইনি ফাঁদ তৈরি করে বিপ্লবীদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই তড়িঘড়ি উদ্যোগ।

অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে, ২০২৪ সালের আন্দোলনকালীন কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ‘জুলাই যোদ্ধা’র বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না।

পরবর্তী ধাপ: উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে উত্থাপন আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছে। এটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।

ড. আসিফ নজরুল জানান, ইনশাআল্লাহ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর নিয়মিত বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সবুজ সংকেত পেলেই রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আইনে পরিণত হবে। সবশেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অধ্যাদেশটি পাস হলে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ছাত্র-জনতার মনোবল বহুগুণ বেড়ে যাবে। এটি কেবল আইনি সুরক্ষাই নয়, বরং বিপ্লবের একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেও গণ্য হবে। যারা রাজপথে দাঁড়িয়ে অকাতরে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, রাষ্ট্র তাদের পাশে থাকার এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই গঠিত হয় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।