শিশু-কিশোরদের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে বের করে আনতে হবে-আমির খসরু 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশু-কিশোরদের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে বের করে আনতে হবে-আমির খসরু 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশকে গড়তে হলে শিশুদের নিয়ে চিন্তা করা দরকার। আপনার সন্তান ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ যাই হোক না কেন আগে তাকে একজন সৎ ও ভালো মানুষ হতে হবে। শিশু-কিশোরদের উদ্ভাবনী শক্তি ও সৃজনশীলতাকে বের করে আনতে বড়দের ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ^ সমাদৃত তরিকায়ে মাইজভা-ারীয়ার প্রবর্তক আওলাদে রাসূল (দ.) গাউসুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভা-ারী (ক.)-এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী এবং ১২০তম বার্ষিক উরস শরিফ উপলক্ষে আজ ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার নগরীর নাসিরাবাদ (বালক) উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর সমাবেশে আমীর খসরু প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভা-ারী (ক.) ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান মাইজভা-ারী একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এ দেড়যুগপূর্তি শিশু-কিশোর সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শিশু-কিশোর সমাবেশ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খান। শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য দেন এবং এস জেড এইচ এম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভা-ারীর (মা.জি.আ) বাণী পাঠ করেন ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর।

প্রধান অতিথি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উন্নত বিশে^ কারিগরি শিক্ষার প্রসারতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, চীনে স্কুল থেকেই ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা নিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছে। তারা ইলেকট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার, প্লাম্বার ইত্যাদি পেশার মানুষ তৈরি করছে। ফলে ওসব দেশে শিক্ষিত বেকারের হার কম। আমরা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষিত বেকার তৈরি করছি। আমেরিকায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই-আড়াই হাজার নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রজেক্ট জমা পড়ে। আমরা এতো বছরেও দুইশত আবিষ্কারের প্যাটেন্ট নিতে পারিনি। আমাদেরকে টেকনোলজিতে ডেভেলপ করতে হবে। আমীর খসরু মাইজভা-ারী একাডেমির ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের শিশু-কিশোর সমাবেশের প্রশংসা করেন এবং তা আগামী দিনে সারা দেশে প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের কথা ভেবে নতুন কুঁড়ির সূচনা করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বর্তমানে তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তার কন্যা জাইমা রহমান বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করছেন। মেয়র বলেন, মাইজভা-ারী একাডেমি আজ ‘মাঘ উৎসব’ নামে দৃষ্টিনন্দন প্রকাশনা বের করেছে। আজকের শিশু-কিশোররা ঋতু সম্পর্কে জানে না। বাংলা মাসের নাম ও ষড়ঋতুর কথা কয়জনই বা জানে। মেয়র বলেন, শিশুদের শেখাতে হবে রাস্তাঘাটে নদী খালে নালায় ময়লা ফেলা যাবে না। আমি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১১টি খেলার মাঠ করে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাট তৈরি করে দেবো। শিশু-কিশোর সমাবেশে উজ্জীবনধর্মী উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের শিশু-কিশোর সমাবেশ দেখে সত্যি আমি অভিভূত। কুরআন মজিদের একটি আয়াত হচ্ছে “লাইসা লিল ইনসানা ইল্লা মা সাআ” চেষ্টা সাধনা করলে মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। আমাকে অনেকে বলেন দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে। আমি বলি দেশটা নিয়ে ভাবনা বাদ দিয়ে আগে নিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন। আপনি ঠিকভাবে চললে দেশটাও ভালো হয়ে যাবে। খুব বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। তখন জীবনে দুঃখ-বিপর্যয় নেমে আসবে। এম এ মালেক উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ইংরেজি শব্দ ঘবংি-এর মর্মার্থ জানাতে পারলে তিনি পুরস্কৃত করবেন। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ওসমান সিদ্দিকী। এম এ মালেক তার হাতে নগদ টাকা তুলে দিয়ে পুরস্কৃত করেন। দৈনিক আজাদী সম্পাদক বলেন, চট্টগ্রামে বিশ^মানের একটি ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য আমি ৪০ কোটি টাকা তুলে দিয়েছি। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছি গরিব মেধাবী অন্ধ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য। কোনো অন্ধ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী থাকলে আমার সঙ্গে দেখা করবেন। আমি প্রতি মাসে তাদের অনুদান দেবো। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। অভিভাবকরা সন্তানদের ভালো মানুষরূপে গড়ে তুলবেন। তাদের সময় দেবেন, উৎসাহ জোগাবেন। তাদের স্বপ্ন দেখাবেন। কাউন্সেলিং করবেন, তবেই তারা সৎ মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। হাজারো শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর সমাবেশ। কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত, না’তে রাসুল (দ.), মাইজভা-ারী গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্কুল মাঠ জুড়ে দেলা ময়না বিজ্ঞান মেলা, শিশু পার্ক, খেলাঘর, পিঠা উৎসব, আলোকধারা বুকস, ট্রাফিক সচেতনতাসহ বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন শিশু-কিশোর অভিভাবকসহ নানা স্তরের মানুষ। দেলা ময়না বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন উদ্ভাবনা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে খুদে শিক্ষার্থীরা। কুলগাঁও সিটি কর্পোরশেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হিরন, সায়মন, আবির নিয়ে আসে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রজেক্ট। তাদের প্রজেক্ট দেখে মুগ্ধ হন সকলে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর পিপি মফিজুল হক ভুইয়া, জিপি আবুল কাশেম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. তৈয়ব চৌধুরী, রাজনীতিবিদ কাজী বেলাল, গবেষক মুহাম্মদ ওহিদুল আলম, সঙ্গিত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, কল্যাণী ঘোষ, আব্দুর রহিম, সিটি কর্পেরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শোয়েব উদ্দিন খান, রোটারিয়ান নাজমুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আবু নাসের নুর অন্তু প্রমুখ।

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email