এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১১ নির্বাচনী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিন থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। অন্যান্য নেতারা যখন বিভিন্ন সময়ের সাথে সাথে সমঝোতা করেছে, আপোষ করেছে, এই একজন নেত্রী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদিনের জন্য আপোষ করেননি। পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনেও একই অবস্থা। ওয়ান ইলেভেনে আমরা দেখেছি শেখ হাসিনা আপোস করে ক্ষমতায় এসেছে। তখন অন্যান্য দল যারা এখন আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারাও কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পক্ষে কথা বলছে। তারাও কিন্তু এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে শেখ হাসিনার সাথে এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আমাদের নেত্রী যখন আন্দোলন করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি একদিনের জন্যও আপোষ করেননি। তখনও আমরা দেখেছি কোন কোন দল যারা আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা এক পা এগিয়েছে দুই পা পিছিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় এদেরকে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র একজন নেত্রী এক ঘন্টার জন্যও আপোষ করে নাই।
গতকাল নগরীর পোর্ট রিপাবলিক ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ধানের শীষের সমর্থনে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে “দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায়” প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি, আমরা বারবার জেলে গিয়েছি, আমরা পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছি, আমাদের নেতা কর্মীরা গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে আমরা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি। আমাদের নেতা কর্মীরা পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে,জেলখানায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে।আমাদের কর্মীরা ধান খেতে থেকেছে, পালিয়ে আমাদের কর্মীরা বেড়ীবাঁধে থেকেছে, আমাদের নেতা কর্মীরা চাকরি হারিয়েছে, ব্যবসা হারিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাহসে আমরা সাহসী হয়েছি, বলিয়ান হয়েছি। আমাদের নেত্রীর সাহস, আপোষহীনতার জন্য আমরা আজকে এই জায়গায় এসেছি। আমাদের নেত্রীর ত্যাগ, আমাদের ত্যাগের ফসল হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ফসলটা হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পূর্ণপ্রবর্তন করা। বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমির খসরু বলেন, “যেভাবে আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, মৃত্যুবরণ করেছি, গুম হয়েছি, খুন হয়েছি। আমাদের নেত্রী আপোষ করেননি। জেলখানায় থেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছে। আমাদের এখন থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত সেই ত্যাগ অব্যাহত রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইন্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য ইসরাফিল খসরু বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্লান, উই হ্যাভ এ প্লান।’ আমাদের নেতার প্লান হচ্ছে ৩১ দফা। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের নেতা
দেশের প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ প্রবর্তনের কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান এমন এক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছেন যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা থাকবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, “জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।”
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, শাহাদাত হোসেন সোহাগ, মোঃ মোখলেছুর রহমান, রাসেল খাঁন, ইমরান চৌধুরী বাবলু, রবিউল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, মোঃ ইসকান্দর।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন রাজু, ইপিজেড থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইউসুফ সুমন, পতেঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ডবলমুরিং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন বাবলু, সদরঘাট থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত, বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরমান শুভ, ডবলমুরিং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান মোহন, সদরঘাট থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল আবেদীন মুন্না, পতেঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ ওসমান সহ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কলসী দিঘির পাড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
ক্যাপশন: চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম-১১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জননেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।







