জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়-মির্জা ফখরুল

জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়-মির্জা ফখরুল

নির্বাচনী প্রচারণার শেষলগ্নে এসে দীর্ঘদিনের মিত্র ও রাজনৈতিক সমীকরণে থাকা জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী আধুনিক বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নিয়ে মধ্যযুগীয় ধারার আফগানিস্তান বানাতে চায়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের এ প্রার্থী দিনভর নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেন।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক কিছু নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, জামায়াত চায় নারীরা কেবল ঘরে বন্দি থাকুক। তারা বলছে নারীরা ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবে না। আমাদের লাখ লাখ নারী বোন গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালান, তারা যদি কাজ করতে না পারেন, তবে খাবেন কী? এ জাতি কি তবে না খেয়ে মরবে?

তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত মূলত জাতিকে প্রগতির পথ থেকে সরিয়ে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তাদের এ কট্টরপন্থী চিন্তাভাবনা আধুনিক বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকলেও, এবার জনসভায় দলটির একাত্তরের ভূমিকার কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন এদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিচ্ছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে। যে দল যুদ্ধের সময় স্বজাতির বিপক্ষে গিয়ে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে, তাদের হাতে দেশ কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

কেবল সমালোচনাই নয়, ভোটারদের মন জয় করতে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আমি খালি হাতে আপনাদের কাছে আসিনি। যদি আমরা জয়ী হই, তবে ঠাকুরগাঁও হবে একটি মডেল অঞ্চল। তার প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করা, বেকারত্ব দূর করতে কলকারখানা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা এবং হিন্দু ও মুসলিম ভাইবোনদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করা।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে সুশাসন ও ইনসাফের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র হবে সবার। বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে নয়, বরং ঐক্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নেব। এদিন ঢোলারহাটের জনসভা ছাড়াও তিনি ঝলঝলিপুকুর, শিমুলতলী, ব্যারিস্টার বাজার এবং আখানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটে গণসংযোগ করেন।

তার সাথে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াতের বিরুদ্ধে মির্জা ফখরুলের এ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email