নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে কঠোর ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে কঠোর ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের বিশাল নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

মোট মোতায়েন: সারা দেশে মোট ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ভূমিকা: শুধু কোস্ট গার্ড থেকেই ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য সরাসরি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

প্লাটুন মোতায়েন: এরই মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনী ডিউটিতে থাকা সদস্যদের পেশাদারত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন জনগণের আমানত। কোনো সদস্য যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থাই নয়, বরং কঠোর ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় কোস্ট গার্ডের অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করেন।

চোরাচালান রোধ: মাদক, অস্ত্র এবং মানবপাচার দমনে বাহিনীর সফল অভিযান।

পদকালীন উদ্ধার: নৌ-দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা এবং সামুদ্রিক জলদস্যুতা দমনে সক্রিয় ভূমিকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দক্ষতা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এই বাহিনীর প্রশংসা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই কঠোর বার্তা মূলত নির্বাচনের আগে জনমনে আস্থা ফেরানোর একটি বড় প্রয়াস। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের ভোটারদের জন্য কোস্ট গার্ডের এই সক্রিয় অবস্থান একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email