
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সব সময় বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশই তাঁদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। জনগণের শক্তিতেই দেশ পুনর্গঠন করার লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা আজ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের নয়, বরং এটি দেশ পুনর্গঠনের একটি মহা সুযোগ। দেশের মানুষ এই দিনে তাঁদের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে তারেক রহমান জানান, নারীকে কর্মের সাথে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগোতে পারবে না। খালেদা জিয়া যেভাবে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, সেই ধারা বজায় রেখে প্রতিটি নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই বিএনপির লক্ষ্য।
কৃষকদের কল্যাণে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা সহজেই ঋণ নিতে পারবেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এ ছাড়া এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণগুলো জনগণের পক্ষ থেকে সরকারই পরিশোধ করে দেবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
ঠাকুরগাঁও এলাকাকে কৃষিনির্ভর উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এখানে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা হবে যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। বেকার যুবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হবে। এই বিশাল দেশ পুনর্গঠনের কাজে তিনি সর্বস্তরের জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
জনসভায় তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল এবং তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এ ছাড়া এখানে ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও তাঁদের রয়েছে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, কেবল অন্য দলের বিরুদ্ধে কথা বলে জনগণের কোনো লাভ নেই। মানুষ জানতে চায় তাদের জন্য কী করা হবে, তাই বিএনপি তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ বা ২০২৪ এর আন্দোলনে আমরা কে কোন ধর্মের তা দেখিনি। হাজার বছর ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। কাউকেই ধর্ম দিয়ে বিচার করা হবে না বরং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবেন।






