ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গেজেট প্রকাশ

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে প্রণীত এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজসহ সাতটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন থেকে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে।

এর ফলে, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো সাতটি সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনতে সরকারের উদ্যোগ অবশেষে সফল হলো। এজন্য গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা মহানগরের সাতটি প্রধান সরকারি কলেজকে যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

অধ্যাদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংযুক্ত কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, ঐতিহ্য, বর্তমান অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা ও বিদ্যমান সকল সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই বজায় থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে না তোলা পর্যন্ত সাময়িকভাবে ভাড়া করা ভবন বা উপযুক্ত স্থানে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা ও একাডেমিক লক্ষ্য ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাদান ও পাঠ্যক্রম, সনদ প্রদান, উচ্চতর গবেষণা, প্রশিক্ষণ, শিল্প-একাডেমি সংযোগ।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদে থাকবেন আচার্য, যিনি পদাধিকারবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি একাডেমিক ডিগ্রি ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার। এ ছাড়া, অন্যান্য পদে রয়েছেন রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, গ্রন্থাগারিক এবং বিভিন্ন স্কুল ও সেন্টারের প্রধানরা প্রশাসনিক কাজের দেখাশোনা করবেন।

সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী নীতিনির্ধারণী কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সংস্থা, যা উপাচার্যের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া, শিক্ষার বিষয়গুলো তদারকি করতে থাকবে ‘একাডেমিক কাউন্সিল’। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একটি আধুনিক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থাও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন পরিবেশে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী এবং বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আর্থিক কার্যক্রমের তদারকি করবে। কমিশন প্রয়োজনে তদন্ত ও আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবে এবং কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সরকারকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email