
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত আমলের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করা, এমনকি পুলিশের ইউনিফর্মকেও একটি দলীয় বাহিনীতে রূপান্তর করা হয়েছিল। প্রেস ক্লাবকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করার ফলে এই ধরনের সার্বজনীন প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শনওে ইফতার মাহফিল,সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপড়ে ফেলা নামফলক পুনঃস্থাপন করার অনুরোধ জানান।
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তবে জনগণের ম্যান্ডেট কেবল প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য নয়, বরং একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তৈরির জন্য। তিনি বলেন, আইনের বাইরে কাউকে নিজের হাতে বিচারের দায়িত্ব তুলে নিতে দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি কল্যাণকামী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র, বিধি-বিধান এবং সংবিধানকে সমুন্নত রাখাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার।তিনি আরও যোগ করেন যে, ওসি বা এসপিকে ব্যক্তিগত হুকুম দিয়ে দেশ চালানোর কালচারে তাঁর সরকার আর ফিরে যাবে না।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে যখন দলীয়করণ, ব্যক্তিকরণ বা পারিবারিকীকরণ করা হয়, তখন সেটি আর তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার খুন, গুম এবং প্রতিষ্ঠানকে ‘হত্যাকরার দায়ে আজ জনগণের কাছে অপরাধী এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতা হারিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নিজেদেরকে ক্ষমতার মালিক মনে করে না, বরং তারা জনগণের নির্বাচিত ‘সেবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের কর্তৃত্ব সুসংহত করতে এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে ‘৩১ দফা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ১২ তারিখে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।
নিজেদের দলকে একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বর্ণনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারা ধর্মের ব্যবসার নামে কোনো ধরনের ‘বিকল্প ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি’ তৈরি হতে দেবেন না।
তিনি ধর্মপ্রাণ মানুষকে সাথে নিয়ে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘মব-কালচার’ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যায় রাষ্ট্র, পুলিশ বা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে কোনো সমাধান করা হবে না। প্রেস ক্লাবের সমস্যা সাংবাদিকদেরই ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে হবে এবং তা হতে হবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক।
জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্ট করে বলেন, প্রেস ক্লাবের বিবেকবান সদস্যরা দলীয়করণের অপরাধকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গণমাধ্যমের মূল কাজ হলো সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা।
বিশেষ করে প্রেস ক্লাবের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করাকেই তিনি ‘ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিল প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধান বক্ত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







