
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,সরকারের লক্ষ্য, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে মীরসরাইয়ে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সংসদসদস্য নুরুল আমীন,জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা , চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খাঁন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক মোঃ নুরুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। যদি আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের চিত্রই বদলে যাবে।
তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। তবে ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারের খালের মালিকানা আছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখার সুযোগ পাবে না। সীমানা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী খাল খননের কাজ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, অর্থের বিষয়টি অবশ্যই বড়। তবে সব হিসাব-নিকাশ করেই আমরা এই প্রকল্পে হাত দিয়েছি।প্রতিটি প্রকল্পই কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। অর্থাৎ খরচ নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন,খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।







