মেয়র শাহাদাতের দ্রুত পদক্ষেপে জলাবদ্ধতা কমে স্বস্তি নগরীতে

মেয়র শাহাদাতের দ্রুত পদক্ষেপে জলাবদ্ধতা কমে স্বস্তি নগরীতে

খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সব এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অস্থায়ী বাধ অপসারণ করায় জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে মেয়র নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধতা-প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ঘুরে ঘুরে পুরো শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড় ব্যতীত নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা নেই।

এর আগে মেয়রের সরেজমিন পরিদর্শন ও নির্দেশনার ভিত্তিতে হিজরা খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বাধ অপসারণ করা হয়। ফলে কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পানি নেমে যায় এবং স্বস্তি ফিরে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড খাল খনন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে সাময়িক বাধ নির্মাণ করা হয়েছিল, যা ভারী বর্ষণে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিদর্শনকালে প্রবর্তক মোড়ে খাল সংস্কার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড ও সিডিএ’র কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় মেয়র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত দায়িত্বশীলভাবে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকির নির্দেশনা দেন।

তবে মেয়রের নির্দেশনায় সিডিএ ও সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বাধ অপসারণ করা হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমে আসে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি, যাতে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

প্রবর্তক মোড় পরিদর্শন সময় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে আজকে ও গতকালকে আমি এসেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সংসদে চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি আজকে আবারো সব জায়গায় সরজমিনে পরিদর্শন করছি। কোন জায়গায় কিন্তু পানির সমস্যা নেই আমি আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, জিইসি গিয়েছি কোন জায়গায় পানির সমস্যা নেই। প্রবর্তকের এই অংশটুকু পানি হচ্ছে যেহেতু এখানে সমস্ত শিট ফাইলগুলো এখানে দিয়ে রেখেছে এখানে যথেষ্ট অবস্ট্রাকশন আছে এগুলো এখন তাদেরকে উঠাইয়ে নিতে হবে।
মেয়র আরও বলেন, “হিজড়া খাল ও জামালখান খালে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করা হচ্ছে। শিট ফাইলগুলোও তুলে নেওয়া হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প সড়ক চালু রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল কলেজ এলাকার একটি সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে যানজট কমে। পাশাপাশি নগরবাসীকে সাময়িকভাবে এই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তবে মেয়রের নির্দেশনায় সিডিএ ও সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এসব বাধ অপসারণ করা হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমে আসে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয় জোরদার করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন, যাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত রাখা যায়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email