
পৃথিবীতে সবকিছুই সীমাবদ্ধ, মানুষের চাহিদা পূরণের সুযোগও এখানে সীমিত। এখানে সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। অনেক কিছুই এখানে অপূরণীয় থেকে যায়। এভাবেই জীবনের শেষ সময় এসে উপস্থিত হয়। মানুষের সীমাহীন চাহিদার অবসান ঘটাতে পারে কেবল কবরের মাটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো আদম সন্তানের মালিকানায় যদি দুই উপত্যকা ভর্তি স্বর্ণ থাকে, তবু সে তৃতীয় আরেকটি স্বর্ণ ভর্তি উপত্যকা অর্জনের ইচ্ছা করবে। একমাত্র কবরের মাটি ব্যতীত অন্য কিছুই তার মুখ ভর্তি করতে পারবে না’ (তিরমিজি : ২৩৩৭)। এ জন্যই অন্য একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে, যাকে প্রয়োজনমাফিক রিজিক প্রদান করা হয়েছে এবং যে তাতেই পরিতুষ্ট থাকে, সেই প্রকৃত সফল মানুষ’ (ইবনে মাজাহ : ৪১৩৮)। তাই পার্থিব জীবনে পরিমিত সম্পদে পরিতুষ্ট থাকার বিকল্প নেই।
এ জন্য ইসলামে সীমার অতিরিক্ত বিলাসী জীবন কাম্য নয়। সাদাসিধা জীবনই ইসলামে উত্তম। বিলাসিতা মুমিনের অন্তর থেকে আল্লাহ ভীতিকে দূরীভূত করে দেয়। ফলে মুমিনরা অন্যায় বা গুনাহ করতে দ্বিধা করে না। ইবাদতের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমনকি দ্বীনবিরোধী কার্যকলাপই নিজের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। এভাবে দুনিয়ার বিলাসিতা জাহান্নামের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নবীজি (সা.) দুনিয়ার বিলাসিতাকে সর্বদা প্রত্যাখ্যান করেই চলেছেন। আর স্বীয় উম্মতদের বিলাসী জীবন পরিহার করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা.) যখন তাঁকে ইয়েমেন দেশে পাঠালেন তখন তাঁকে বললেন, তুমি বিলাসিতা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা আল্লাহ তায়ালার খাঁটি বান্দাগণ বিলাসী জীবনযাপন করেন না। (মুসনাদে আহমাদ)
পৃথিবীতে অল্পতে তুষ্ট থাকা কাম্য। পার্থিব জীবনে সবকিছুর পরিপূর্ণতা সম্ভব হয় না। যারা দুনিয়ার জীবনে সব পেতে চায় তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায় একসময়। তাই অল্পতে তুষ্ট থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এটিই হলো নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের অনুপম আদর্শ। এ আদর্শ গ্রহণ করলে কোনো মুমিন দুনিয়ার জীবনে মানসিক দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হবে না। যে ব্যক্তি অল্পতে তুষ্ট হবে তার ইবাদতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন। তাই মুমিনকে আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। যদিও তা অল্প হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অল্প রিজিকে পরিতৃপ্ত ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয় আল্লাহ তায়ালা তার অল্প আমলে সন্তুষ্ট হন।’ (বায়হাকি)
হাদিসে আরও আছে, হজরত মিকদাম বিন মায়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি কোনো ব্যক্তি তার পেট অপেক্ষা মন্দ কোনো পাত্রকে ভর্তি করেনি। আদম সন্তানের জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট যা দ্বারা সে নিজের কোমরকে সোজা রাখতে পারে। যদি এর অধিক খাওয়া প্রয়োজন মনে করে তবে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য আরেক তৃতীয়াংশ পানীয় এবং অপর তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে (তিরমিজি : ২৫৫৪; ইবনে মাজাহ : ৩৪৭৪)। তাই আসুন, দুনিয়ার জীবনে বিলাসিতা কিংবা অনেক কিছু পাওয়ার পেছনে না ছুটে আমরাও পরিমিত সম্পদে পরিতুষ্ট থাকি। আল্লাহ আমার জন্য যতটুকু রিজিক রেখেছেন, তাতেই নিজের কল্যাণ মনে করে তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকি। এতেই আমাদের কল্যাণ।







