স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুললো চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা : আবু সুফিয়ান এমপি

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুললো চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা : আবু সুফিয়ান এমপি

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস মেশিনের অভাবে আইসিইউতে ভর্তি অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর হাসপাতালটিতে প্রথমবারের মতো রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস চিকিৎসা সেবা চালু হওয়ায় কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

গতকাল রোববার একজন রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন এই সংযোজন চট্টগ্রামের সাধারণ রোগীদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপও কিছুটা কমবে। এছাড়া নতুন জেনারেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সেবার মান বাড়বে এবং রোগীর চাপও হ্রাস পাবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন বলেন, ডায়ালাইসিস সেবা চালুর মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করলো। বিশেষ করে আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের এখন আর বাইরে রেফার না করে হাসপাতালেই ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কিডনি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে ডায়ালাইসিস সেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানো যাবে।

আবু সুফিয়ান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। জনগণের সেবক হিসেবে আমরা কাজ করতে চাই। এ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য পৃথক ডায়ালাইসিস ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের সন্তান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সঙ্গে হাসপাতালগুলোর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতে যত বরাদ্দ প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আনামুল হক ইকবাল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ডায়ালাইসিস সেবা চালুতে সহযোগিতা করেছেন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা থাকলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা নেই। অনেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে বের হন। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই, যাতে সরকারি হাসপাতালে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পায়।

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন এনেস্থেসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মৌমিতা দাশ এবং সার্জারি ওয়ার্ডের রেজিস্টার ডা. সাকিব জিয়াউদ্দিন মোঃ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনেস্থেসিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মইনুল আহসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. এ.এস.এম ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, আনামুল হক ইকবাল, ডা. বিজন কুমার নাথ, ডা. রাজদীপ বিশ্বাস, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, ইব্রাহিম বাচ্চু, ইউনূস চৌধুরী হাকিম, আলাউদ্দিন আলী নূর এবং কায়সার আলী চৌধুরী প্রমুখ।
এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email