
দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় এই কম্পন টের পাওয়া যায়।
যদিও কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্থানে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা দ্রুত নিচে নেমে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের বিলাসিপাড়া। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই মাত্রা ৪.৪ বলে উল্লেখ করেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল তুলনামূলক কম। এই স্বল্প গভীরতার কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে কম্পনটি বেশ স্পষ্ট ও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে এবারের কম্পনটি মাঝারি মাত্রার নিচে থাকায় জানমালের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একাধিকবার এ ধরনের মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবারের এই ভূ-কম্পনের পর উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোনো ফাটল বা ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আপাতত জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী কোনো পরাঘাত বা ‘আফটার শক’ হতে পারে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।







