
চট্টগ্রামের জেলার বোয়ালখালী উপজেলা ও পৌর সদরস্হ গোমদন্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।একবার নয় পরপর দু’বার জাতীয়করণ ঘোষিত হলেও একটি কুচক্রী মহলের রোষানলে পড়ে প্রতিবারই বাদ পড়ে যায় এটি ।এটাকে বিগত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিদ্বেষ অভিহিত করে বর্তমান সরকারের কাছে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণ আদেশ পুনর্বহাল চান এলাকাবাসী।
জানাযায় -১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টির বুনাম ও ঐতিহ্য রয়েছে নানা কারনে জেলা এমনকি দেশজুড়ে। সন্তোষজনক ফলাফল, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্হা, উন্নত শিক্ষা কার্যক্রম,সুবিশাল খেলার মাঠ,সমৃদ্ধ লাইব্রেরি,যুগোপযোগী কম্পিউটার ল্যাব ও কারিগরি শিক্ষার নানান সুযোগ-সুবিধা থাকার কারনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তির আগ্রহ করে থাকেন।এর যোগাযোগ ও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারনে দেশের অনেক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী – সরকারীদল বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের যখনই এ উপজেলায় আগমন ঘটে তখন সবার চাহিদার তালিকায় থাকে এ বিদ্যালয়টি। উপজেলা প্রশাসনের একেবারে সন্নিকটে এর অবস্থান হওয়ায় জাতীয় – আন্তর্জাতিক দিবসে সরকারি -বেসরকারি সব অনুষ্টান বা কর্মসূচীগুলো এ বিদ্যালয়েই পালম করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান সার্বিক বিবেচনা করে ততকালীন সরকার ১৯৮৯ সালে প্রথমবার ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার জাতীয়করনের ঘোষনা দেয় বিদ্যালয়টিকে ।তাঁদের অভিযোগ একটি কুচক্রী মহলের রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রসূত কারনে জাতীয়করণ থেকে বারবারই বাদ পড়ে যাচ্ছে এটি। কারন হিসেবে তাঁদের ধারণা একেত পুরো এলাকাটি বিএনপি অধ্যুষিত দ্বিতীয়ত বিদ্যালয়টিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের অবস্থানের অনেক স্মৃতির কথা প্রচারিত রয়েছে এলাকায়। যার কারনে জীবিতকালে বেশ কয়েকবার এ বিদ্যালয়ে এসেছিলেন শহীদ জিয়া ও তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। হয়ত এসব কারনে স্হানীয় কুচক্রী মহলের বিরোধিতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় পড়ে জাতীয়করন থেকে বারবারই হোঁচট খেয়েছে বিদ্যালয়টি- এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজ জানান-১৯৭৭-১৯৭৮ সালে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ও জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে মডেল প্রকল্পভুক্ত করা হয় বিদ্যালয়টিকে। পরে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয়করণ ঘোষিত হয়েও পরক্ষণে বাদ দেয়া হয় এটিকে।একবার নয় পরপর দু’বার। তিনি আরো জানান ২০১৫ সালের ২৪ই আগস্ট ততকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানের স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির ৪৭ নম্বর তালিকায় গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম লিপিবদ্ধ ছিল। একই বছরের ১৮ অক্টোবর উপসচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে হঠাৎ এ আদেশ বাতিল করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় সবদিক দিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ ও প্রশাসন থেকে অনেক দূরের অপর একটি বিদ্যালয়ের নাম ঘোষনা করা হয়। ততকালীন সরকারের বৈষম্যমূলক ও হটকারী এ সিদ্ধান্ত বোয়ালখালীর মানুষ এখনও ক্ষুব্ধ । এ নিয়ে এলাকায় বাদ- প্রতিবাদ আন্দোলন- সংগ্রাম অনেক কিছুই হয়েছে। তবুও মন গলেনি বিগত সরকারের কারো।
এলাকার অনেক শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবী, শিক্ষা জাতীয়করণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, অবদান সরকারি প্রয়োজনীয়তা ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অন্যথায় শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্য আরও ঘনীভূত হবে। ইতিমধ্যে বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এ ধরণের অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুবিচার পেয়েছে যথাযথ পুনর্বাসিত ও হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সরকারের কাছে বিগত সরকারের বৈষম্যের শিকার এ বিদ্যালয়টি ও সুবিচার এবং জাতীয়করণ আদেশ পুনর্বহাল চান এলাকাবাসী।







