হিজড়া জনগোষ্ঠীকে আইনি সহায়তায় গুরুত্বারোপ বিশেষজ্ঞদের

হিজড়া জনগোষ্ঠীকে আইনি সহায়তায় গুরুত্বারোপ বিশেষজ্ঞদের

চট্টগ্রাম মিডিয়া ফোরামের গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন সম্পর্কে মতপ্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে ) নগরের একটি অভিজাত হোটেলে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় হিজড়া সম্প্রদায় তথা তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভুমিকা শীর্ষক আলোচনা করা হয়।

সভার শুরুতে বন্ধুর কেন্দ্রীয় ম্যানেজার এডভোকেসি এন্ড কমিউনিকেশন মোঃ মশিউর রহমান লিঙ্গবৈচিত্র্যময় এই সম্প্রদায়ের নানা সমস্যা ও প্রতিকার এবং তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অধিকারের তথ্য তুলে ধরে্ন। সেই সাথে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি কিভাবে হিজড়া জন গোষ্ঠী র জন্য স্বাস্থ্যসেবা , আর্থিক উন্নয়ন , শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক পজিটিভ দৃষ্টি ভঙ্গির নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এতে সাংবাদিক, আয়োজক ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিসহ মোট ১৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় ম্যানেজার অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন মোহাম্মদ মশিউর রহমান, সিনিয়র ডিআইসি ম্যানেজার এ কে হুমায়ুন কবির, বন্ধু সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক স্বরূপ ভট্টাচার্য। বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোরের সিনিয়র রিপোর্টার আ্ল রাহমান, দৈনিক আজাদীর সিনিয়র সাব এডিটর জাহেদ আলম, নয়াদিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার ওমর ফারুক, দৈনিক কর্ণফুলীর বার্তা সম্পাদক জালালুদ্দিন হাওলাদার, যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আহমদ মুছা, আজকের কাগজ বিডি ডটকম এর সিনিয়র রিপোর্টার রাজু চৌধুরী , চট্টগ্রাম প্রতিদিন এর সহ সম্পাদক দেবজিত চক্রবর্তী , দেশটিভির আজিজা হক পায়েল, ভোরের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার বিশ্বজিৎ চৌধুরী, আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সোহেল মারমা, দৈনিক পূর্বদেশের মনিরুল ইসলাম মুন্না, দৈনিক আগামীর সময়ের নীল আঁখি বড়ুয়া।

মত প্রকাশে সাংবাদিকরা বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও সমাজের অংশ, হিজড়া একটি সম্প্রদায়। যেখানে নির্দিষ্ট রীতিনীতি ও সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ থাকে। চরম বাস্তবতা হচ্ছে এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও প্রতিনিয়ত আবাসন সমস্যা ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।

সেই জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সরকারি উদ্যোগ এর কথা বলা হয়।

বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। পিংকি হিজড়া তার বক্তব্যে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো হিজড়াদের আলাদা কার্ড দেয়া উচিত। নবনীতা হিজড়া বলেন, চলার পথে প্রতিনিয়ত মানুষের আক্রোশের শিকার হতে হয়।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর হিজড়া জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করে। গেজেটে উল্লেখ করা হয়, “সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া লিঙ্গ’ হিসাবে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি প্রদান করিল।” ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী তাদের সংখ্যা মাত্র ১২ হাজার ৬২৯ জন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email